ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৬ দফায় আরো ১৫দিন পিপলস লিজিংয়ের লেনদেন বন্ধ

280 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১০, ২৫ মার্চ ২০২০  
১৬ দফায় আরো ১৫দিন পিপলস লিজিংয়ের লেনদেন বন্ধ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখার সময় আবারও বেড়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী আগামী ২৭ মার্চ থেকে আরও ১৫ দিন কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জিানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে কোম্পানিটির লেনদেনের সময় ১৬ দফা বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত ১৪ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধের ঘোষণা করে ডিএসই। দেশের প্রধান এ স্টক এক্সচেঞ্জের ৯৩২তম বোর্ড সভায় কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধের প্রথম  স্থগিতাদেশই বর্ধিত করে গত ১৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। এরপর আবারো দ্বিতীয় দফায় ২৮ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় গত ১২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ৪র্থ দফায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত, ৫ম দফায় ১৩ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত, ৬ষ্ঠ দফায় ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, ৭ম দফায় ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত, ৮ম দফায় ২৬ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৯ম দফায় ১১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ১০ম দফায় ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত, ১১ম দফায় ১২ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত, ১২ম দফায় ২৭ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ১৩ম দফায় ১২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ১৪ম দফায় ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত এবং ১৫ম দফায় ১৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ডিএসই।

জানা গেছে, ক্রমাগত লোকসানের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংকে অবসায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিটিকে অবসায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একজন অবসায়কও নিয়োগ দেয়।

উল্লেখ্য, পিপলস লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান ২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ। ২৮৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির বিতরণকৃত ৬৬ শতাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে পিপলস লিজিং।

নিরীক্ষক পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস তাদের কোয়ালিফায়েড অপিনিয়নেও পিপলস লিজিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টসহ ২০১৮ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ১৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর তাদের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির চলতি সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ ৩ দশমিক ১১ গুণ বেশি।


এনটি/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়