ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ চৈত্র ১৪২৬, ১০ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পুঁজিবাজার উন্নয়নে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিএসই’র ১৬ প্রস্তাব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৬ ৪:৩১:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৬ ৮:৩৪:০৫ পিএম

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বিদ্যমান কর্পোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করাসহ ১৬ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

বুধবার (২৫ মার্চ) সিএসই’র বাজেট প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করার দিন ধার্য ছিল। তবে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে।  তবে সিএসই তাদের বাজেট প্রস্তাবটি এনবিআরের কাছে জমা দিয়ে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সিএসই’র দায়িত্বপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা তানিয়া বেগম রাইজিংবিডিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিএসই এনবিআরকে জানিয়েছে, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিগত বছরগুলোত সরকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এছাড়া আরো অনেক প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। দেশের সার্বিক ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যায় নির্বাহের জন্য সরকারকে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংস্থান করতে হয়। সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের অন্যতম উৎস হিসেবে আয়করসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  এই কর ব্যবস্থাকে বাস্তবসম্মত ও যুগোপযুগী করার লক্ষ্যে সরকার যে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে তা অতি প্রশংসনীয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিএসই আসন্ন জাতীয় বাজেটে ২০২০-২০২১ সম্পর্কিত প্রস্তাবনা পেশ করতে পেরে আনন্দিত।

সিএসই’র বাজেট প্রস্তাবনায় উল্লেখ রয়েছে, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য আসন্ন বাজেটে দেশের করহার বিদ্যমান ৩৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ২০ শতাংশ হারে করপোরেট কর নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে সিএসই। বর্তমানে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি ও মোবাইল ফোন অপারেটর ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২৫ শতাংশ ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ৩৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর প্রযোজ্য।

অতালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করলে হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত লাভ করে। যা ২০১৯ সালের অর্থ আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য। সিএসই এ সুবিধা শর্তসাপেক্ষে তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এক্ষেত্রে সিএসই তালিকাভুক্তির প্রথম বছরে ১০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে ৫ শতাংশ রেয়াতি হারে কর নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। তবে আলোচ্য বছরগুলোতে যেসব কোম্পানি ‘এ’ ক্যাটাগরি বজায় রাখতে পারবে, তারাই কর রেয়াতের সুবিধা পাবে।

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের (এসএমই) কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য উৎসাহিত করতে সিএসই এসব কোম্পানিকে প্রথম তিন বছর করমুক্ত রাখা ও পরের বছরগুলোতে ১৫ শতাংশ রেয়াতি হারে কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এছাড়া সিএসই যেসব কোম্পানি ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৩৫ শতাংশের কম হারে লভ্যাংশ দেয়, সেসব কোম্পানির জন্য ৫ শতাংশ এবং ৩৫ শতাংশ বা তার বেশি হারে লভ্যাংশ দেয়, সেসব কোম্পানিগুলোর জন্য ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

বন্ড লেনদেনের জন্য বর্তমানে দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর আদায় করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও পৃথক বন্ড মার্কেট গঠনের লক্ষ্যে বন্ড লেনদেনকে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিএসই।

রফতানিতে প্রণোদনার অংশ হিসেবে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হয়ে থাকে। এ হার কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সিএসই।

বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যর মাধ্যমে সিকিউরিটি লেনদেনের ওপর ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হারে কর আদায় করা হয়ে থাকে। স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের কাছ থেকে উৎসে আয়কর কর্তনের হার আগের মতো দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে কর্তিত করকে ৮২(সি) ধারার অধীনে ব্রোকারেজ ব্যবসা থেকে উদ্ভূত সমুদয় আয়ের জন্য চূড়ান্ত করদায় বিবেচনার বিধান করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্যারি ফরোয়ার্ডের সময়সীমা বাড়িয়ে আট বছর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করেছে সিএসই। বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যরা তাদের ব্যবসায়িক লোকসান ষষ্ঠ কর বছর পর্যন্ত ক্যারি ফরোয়ার্ড করতে পারেন।

এক্সচেঞ্জটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মূলধনি মুনাফার ওপর প্রদেয় করহার বিদ্যমান ১০ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলেছে।

ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষেত্রে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিট ফান্ড থেকে লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়া ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে এ দুই ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৫০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।

লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে এক তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশের ওপর করহার ২০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলেছে সিএসই। এক্ষেত্রে রেকর্ড ডেট-পূর্ববর্তী ন্যূনতম তিন মাস ওই শেয়ার ধারণের শর্ত আরোপের কথা বলেছে সিএসই।

আর বিদেশি বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের থেকে অর্জিত লভ্যাংশের ওপর কর কর্তনের হার কমিয়ে কোম্পানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে সিএসই।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে সিএসই।

এক্সচেঞ্জটির মতে, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি যে ১০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কেটে রাখে, তা বিনিয়োগকারীদের জন্য চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা তাদের মোট করযোগ্য আয়ের ২৫ শতাংশ, যা ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি নয়। সিএসই এ সীমা বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে।

এক্সচেঞ্জটি ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের অর্জিত বাড়িভাড়া ভাতার করমুক্ত সীমা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ বা মাসিক ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া এ শ্রেণির করদাতাদের জন্য ইউটিলিটি বিলগুলোকে মেডিক্যাল ও বাড়িভাড়ার মতো অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছে সিএসই।

সিএসই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে মওকুফ যেকোনো পরিমাণ মার্জিন ঋণ ও এর সুদ কর আওতার বাইরে রাখা এবং এ সুবিধা ব্যক্তি ও কোম্পানি শ্রেণির করাদাতা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করেছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে কোনো ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে কোনো শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড অথবা অন্য কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে গৃহীত মার্জিন ঋণ ও ঋণের সুদ ট্রেকধারীর মাধ্যমে মওকুফ করা হলে মওকুফজনিত সুবিধার মোট অংক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত করযোগ্যতার আওতাবহির্ভূত রাখা হয়েছে। এর বেশি টাকার জন্য অতিরিক্ত অংকের করযোগ্যতার বিধান প্রযোজ্য।

এছাড়া সিএসই সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে (যেমন পদ্মা সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল ইত্যাদি) অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংস্থান করার প্রস্তাব করেছে।


ঢাকা/এনটি/জেডআর