ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ চৈত্র ১৪২৬, ১০ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কোন পথে অর্থনীতির চাকা?

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৬ ৭:৪২:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৬ ৮:১৫:২৬ পিএম

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে করোনা তার থাবা বসিয়েছে। আর অন্যান্য খাতের মতো এর পড়েছে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে এর প্রভাব পড়েছে দ্রুত। এমন অবস্থায় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে ইতোমধ্যেই দুই কোটি ডলারেরও বেশি অর্ডার বাতিল হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন তাদের প্রাথমিক এক হিসাবে উল্লেখ করেছে, শুধু কয়েকটি রপ্তানি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে করোনার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়তে পারে—এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছিল ট্যারিফ কমিশনকে। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ট্যারিফ কমিশন একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে তিন খাতের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ উঠে উসেছে। এই তিন খাত হচ্ছে—ফিনিশড লেদার, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও মুদ্রণ শিল্প। এছাড়া, দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও সুদূরপ্রসারী ক্ষতির মুখে  হতে পারে বলে প্রতিবেদনে  উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, করোনার কারণে গত একমাসে ২০০ কোটি টাকার জীবন্ত কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি করা যায়নি।  সবই নষ্ট হয়ে গেছে। রফতানি শুরু না হলে এ শুধু এই খাতেই  ক্ষতি হতে পারে ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবেদনটি একেবারেই প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কমিশন এ মাসের শেষে আরও একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। তখন দেশের অর্থনীতির ওপর করোনার প্রভাবের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।  

পোশাক খাতের লোকসান সম্পর্কে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাত সম্ভববত সবচেয়ে কঠিন অবস্থা পার করছে। একের পর এক পোশাক কারখানার ক্রয় আদেশ বাতিল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে এ খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা আগে বলেছিলাম চীন থেকে উপকরণ আমদানি বন্ধ থাকায় এক থেকে দেড় মাসের জন্য হয়তো একটা ধাক্কা খাবো। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা মহাসংকট তৈরি করবে। নিটের ৭০ শতাংশ পণ্য ইউরোপে রফতানি হয়। সেখানে দোকানপাট বন্ধ। ক্রেতারা বিদ্যমান অর্ডার স্থগিত করার কথা বলছেন।  নতুন কোনো অর্ডার নেই।’

দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘রফতানি আয়ে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, আমাদের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে করোনার সংক্রমণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা পোশাক নেওয়া কমিয়ে দেবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অর্থনীতিতেও মন্দা দেখা দেবে। এর সরাসরি প্রভাব রফতানি আয়ে পড়বে।’

এই ব্যাপারে সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘করোনার কারণে পৃথিবীজুড়েই যোগাযোগ বন্ধ। সমস্যা হচ্ছে কিছু কিছু দেশ রফতানি অর্ডার বাতিল করতে চাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য কিছু সমস্যা সৃষ্টি করবে।’ তবে, পুরো বিষয়টির ওপর সরকারের নজর আছে বলেও তিনি জানান।


ঢাকা/হাসনাত/এনই