ঢাকা, শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসির কাছে বিনিয়োগকারীদের ২৪ দফা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৪ ৪:৩৪:০৬ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৪ ৪:৩৪:০৬ এএম

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত উল ইসলামের কাছে ২৪ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটির নেতারা বুধবার (৩ মে) সন্ধ্যায় বিএসইসির সম্মেলন কক্ষে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে এসব দাবি পেশ করেন।

এ সময় বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি এ.কে.এম মিজানুর রশিদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক,  সাংগঠনিক সম্পাদক এ. কে.এম. শাহাদাত উল্লাহ, কার্যকরী সদস্য মোঃ মামুন হোসেন শামীমসহ অন্যান্য নেতা কর্মীরা।

বুধবার রাতে সংগঠনটি থেকে পাঠোনো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে সংগঠনটির নেতারা জানান, দীর্ঘ প্রায় একদশক থেকে লাগাতার পতন ও সুশাসনের অভাবে  দেশের পুঁজিবাজার অনাচারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পুঁজি হারানোর এই রহস্যময়তা ও দায়িত্বহীনতার কারণে নিঃস্ব হয়ে অনেক বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেছেন। আর যারা বেঁচে আছেন তারাও একপ্রকার মৃতপ্রায় অমানবিক অবস্থায় দিন যাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে একটি উৎপাদনমুখী, গণমুখী এবং বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

তাই ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, উন্নয়ন-অর্থায়নের উৎস হবে পুঁজিবাজার’ এই প্রত্যয় নিয়ে আস্থা বিনির্মাণ ও তারল্য সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে ২৪ দফা দাবি উপস্থাপন করা হলো।

বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো হলো-

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদেয় ঐতিহাসিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাজারের পতন রোধকল্পে ফ্লোর প্রাইস পদ্ধতি বহাল রাখা। দশ টাকার নিচে বা ফেস ভ্যালুর নিচের প্রত্যেকটি শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ভ্যালু ন্যূনতম দশ টাকায় নির্ধারণ করা।

শেয়ারবাজারের তারল্য প্রবাহ যৌক্তিকভাবে গতিশীল ও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বা কমপক্ষে আগামী এক বছর বাজারে নতুন কোন আইপিও, রাইট শেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ার বা কোন প্রকারেই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করা যাবে না।

তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য বিদ্যমান মার্জিন লোন প্রদানের হার ১:০.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ১:১.৫ করতে হবে।

আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিনা শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ শুধুমাত্র শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করতে হবে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগকারীদের টাকার উৎস সম্পর্কিত প্রশ্ন ও হয়রানি করা যাবে না।

সরকার ঘোষিত সকল ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বাজারে দুইশো কোটি টাকা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম পাঁচশো কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার বৃহত্তর স্বার্থে অতি দ্রুত ‘বাইবেক কোম্পানি আইন’ পাশ করতে হবে।

হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত কোম্পানি আইনের ২সিসি ধারা মোতাবেক শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানিকে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণ করতে হবে। আর পৃথকভাবে পরিচালকদেরকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ শেয়ারধারণ করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত সকল বিনিয়োগকারীর বিও চার্জ মওকুফ করতে হবে।

বাজারের তারল্য সংকট দূরীকরণ ও আন্তজার্তিক মানদণ্ডে উন্নীত করার জন্য ডে ট্রেডিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ব্যক্তিগত আয়কর মুক্ত সীমা ন্যূনতম ১০ লক্ষ টাকা এবং এসএমই শ্রেণিভুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়কর মুক্ত ন্যূনতম সীমা ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

সকল ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, ইস্যু ম্যানেজারদেরকে শুধুমাত্র শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের শর্তে প্রচলিত এফডিআর এর ন্যায় স্বল্প সুদে এফডিআর, এসটিআর, এলটিআর অথবা নিজস্ব মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি দ্রুত প্রদান করতে হবে।

পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করতে বা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যমূলক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মুষ্টিমেয় চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কোম্পানির প্রাইস সেন্সেটিভ নিউজের নামে অনৈতিক শেয়ার ক্রয়-বিক্রির তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে প্ররোচিত করছে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্ট এবং প্যানেল কোডের আওতায় দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের কাছে পেশ করেন বিনিয়োগকারীরা।

 

ঢাকা/এনটি/টিপু