ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে ফের ডিবি’র অভিযান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৯, ১৫ জুলাই ২০২০  

শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনা তদন্তে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যালয়ে ফের তথ্য সংগ্রহের জন্য অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আগের মতো এবারেও ডিবি’র এ কাজে সহযোগিতা করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিন বিকেল ৪টার থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে ব্যাকঅফিস সার্ভার থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করেন।

এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ কর্মচারী মো. মোবারক করিম ও অফিস স্টাফ মো.  মোবারক উপস্থিতি ছিলেন।

এ অভিযানটি ডিবি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাভেদ ইকালের নেতৃত্বে ও পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসানের তত্ত্ববধানে পরিচালিত হয়।

এ বিষয়ে ডিবি’র পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন ধরেননি।

তবে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারী নাজির আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে ডিবিসহ স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রধান কার্যালয়ে আসেন। তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা সেখান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য- উপাত্ত সংগ্রহ করেন। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে বড় ধরনের শেয়ার জালিয়াতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।’

এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যাকঅফিস সার্ভারের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ডিবি। ওইদিন রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিবি তথ্য সংগ্রহ করে।

এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর- নোয়াখালী সীমান্ত এলাকা থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হওয়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহীদ উল্লাহ, তার স্ত্রী নিপা সুলতানাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগ।

এদিকে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শহীদ উল্লাহর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওইদিন তার স্ত্রী নিপা সুলতানাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক দিনের রিমান্ড শেষে শহীদ উল্লাহকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পল্টন থানা পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২২ জুন এমডি শহীদ উল্লাহ, তার স্ত্রী নিপা সুলতানা ও তার ভাই ওয়াহিদুজ্জামান ক্রেস্ট সিকিউরিটিস স্টক ব্রোকারেজ হাউজটি বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায়। তার প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীদের শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনাবেচার ১০০ কোটি টাকা ছিল। শহিদুল্লাহ ২২ তারিখে তার প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে প্রতারিত করার জন্য সরিয়ে নিয়েছে বলে ডিবি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।

 

ঢাকা/এনটি/আমিনুল

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়