ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

ঢাকায় ব্যতিক্রমী ‘ভৈষা দই’ মেলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১২, ২৯ জুন ২০২২  
ঢাকায় ব্যতিক্রমী ‘ভৈষা দই’ মেলা

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা। প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্যের মুগ্ধতার কারণে ভোলা জেলাকে বলা হয় কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ। জেলার পূর্ব দিকে মেঘনা নদী, পশ্চিমে তেঁতুলিয়া, উত্তরে ইলিশা আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এই উত্তাল জলরাশির মাঝে জেগে ওঠা অসংখ্য চরে সবুজ ঘাসের বুকে চরে বেড়ায় হাজারো মহিষ। আর সমতলে বসবাসরত মানুষেরা বসত-ভিটায়, খামারে পালন করে প্রায় ৪ লাখ গরু। ফলে, এ অঞ্চলে যেমন প্রচুর পরিমাণে দুধ উৎপাদন হয়, দুধ হতে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে এ অঞ্চলের মহিষের দুধের কাঁচা দইয়ের সুখ্যাতি সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয়ভাবে এটি ‘ভৈষা দই’ নামে পরিচিত। এই টক দই গুড়, মিষ্টি অথবা চিনি দিয়ে খাওয়া যায়। ব্যতিক্রমী এই ভৈষা দইকে দেশের সকল অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত করতে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পরিবার উন্নয়ন সংস্থা  (এফডিএ) সরকারের পল্লী কর্ম – সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মাধ্যমে পরিচালিত সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) এর আওতায় রাজধানী ঢাকায় আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘দই মেলা ২০২২’।

রাজধানীর লালমাটিয়া, মিরপুর ২, খিলগাঁও, গাবতলি, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার অরগানিক পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে আগামী ২ এবং ৩ জুলাই চলবে এই ভিন্নধর্মী দই মেলা। যেখানে ১ কেজি পরিমাণ ভৈষা দই’র বাজারমূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৩০% ছাড়ে ১৭৫ টাকায় বিক্রি করা হবে। আগ্রহী গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফেসবুক পেজ থেকে অগ্রিম অর্ডার যেমন করতে পারবেন, তেমনি মেলার ২ দিন সরাসরিও সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়াও, মেলায় ভোলার চরফ্যাশনে উৎপাদিত খাঁটি গাওয়া ঘি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। 

এ বিষয়ে এফডিএ পরিচালিত সাস্টেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) এর ব্যবস্থাপক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা চাই ভোলা অঞ্চলের এই পণ্যটি দেশের সকল মানুষের কাছে পরিচিতি পাক। এটি যেহেতু স্বাস্থ্যসম্মত এবং কোন প্রকার মিশ্রণ ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয় সেহেতু, এই পণ্যটি সকল স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ গ্রহণ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, সাস্টেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) এর মাধ্যমে ভোলা জেলাকেন্দ্রিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) চরফ্যাশনে উৎপাদিত দুগ্ধ পণ্যকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ও বাজারজাতকরণে কাজ করছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব খামার তৈরি, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে পণ্য প্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণে প্রান্তিক খামারি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে আর্থিক ও সব ধরনের কারিগরি সহায়তা।

মেয়া/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়