ঢাকা     রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৭ ||  ০৯ সফর ১৪৪২

বাজেটের জন্য ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৭, ২৫ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বাজেটের জন্য ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব পেশ

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আলমগীর হোসেনের কাছে পেশ করেছেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি শামস মাহমুদ।

বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকা চেম্বার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে মোট ১১টি প্রস্তাব পেশ করেছে।  ডিসিসিআই সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ প্রগেসিভহারে সব স্তর থেকে করপোরেট কর হার আগামী ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশ, ৭ শতাংশ ও ১০ শতাংশ হারে হ্রাস করা, করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর ২০ শতাংশ এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন।  যাতে করে হ্রাসকৃত করপোরেট ট্যাক্স পুনঃবিনিয়োগ করা হলে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ কর আহরণের নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার কর মুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হতে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা এবং ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর সর্বনিম্ন হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে হ্রাস করার প্রস্তাব করেন।  কারণ বর্তমান মূদ্রাস্ফীতির হার ও বর্ধনশীল জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনায় রেখে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি কর পক্রিয়া সহজীকরণ ও করের আওতা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ অটোমেটেড অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন।  ফলে দেশের কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ হবে এবং ব্যবসার পরিবেশ সূচক উন্নয়নে এটি কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি, ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করলে কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ প্রদানের পরিবর্তে ৫ শতাংশ, ৭.৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ অথবা যেকোনো হারে ভ্যাট প্রদান করলে কর রেয়াতের সুযোগ প্রদানেরও প্রস্তাব করেন।

শিল্পায়নের ধারাকে বেগবান করার জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পপণ্য উৎপাদন বাড়াতে ও রপ্তানি বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে শিল্পপণ্য উৎপাদনে সব প্রকার কাঁচামাল ও মেশিনারিজ এর ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের ডিজাইন এবং ডামি সেন্টার, স্যাম্পল, ইটিপি, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেন।

এছাড়াও এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক টার্নওভারের লিমিট ৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব এবং পণ্যের ভ্যালু অ্যাডিশন বা মুনাফা অনুপাতে ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন।

বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণের আওতা এবং মান বৃদ্ধি করতে সঞ্চালন ও বিতরণ-এ বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান এবং বিদ্যুৎ খাতের আমদানি বিকল্প ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পসমূহকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতকে সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

একই সাথে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ বছরের বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান। যাতে করে সরকার, সাধারণ জনগণ এবং বেসরকারি খাত এ অবস্থা উত্তরণে সহায়ক নীতিমালা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সুফল পেতে পারে।


হাসিবুল/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়