ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

চামড়া রক্ষায় গুচ্ছ পরামর্শ  

শাহ আলম খান  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ৩১ জুলাই ২০২০  

কোরবানির পশুর চামড়া সুরক্ষার দায়িত্ব কোরবানিদাতার বলে মনে করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির মতে, চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিতের পাশাপাশি তা গরিব-মিসকিন-এতিমের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বও কোরবানিদাতার। এই বার্তা পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে সারাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম-খতিব-শিক্ষক ছাড়াও চামড়াসংশ্লিষ্ট একাধিক সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর চামড়াখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরামর্শ মেনে চললে একদিকে চামড়া রক্ষা সহজ হবে, অন‌্যদিক গরিব-মিসকিন-এতিমও ন‌্যায‌্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

গত ৮ জুলাই ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোরবানির পশুর চামড়া ও মাংসে  গরিব-মিসকিন-এতিমের হক রয়েছে। এই হক তাদের কাছে পৌঁছানোর জিম্মাদারের দায়িত্ব ইসলাম কোরবানিদাতাকেই দিয়েছে। এই কারণে প্রত্যেক কোরবানিদাতাকেই চামড়া সুরক্ষায় মনোযোগী হতে হবে।

ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে বলা হয়েছে—পশু কোরবানির পর সতর্কতার সঙ্গে চামড়া ছাড়াতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় চামড়া কেটে গেলে, গভীর বা আংশিক ক্ষত হলে তার মূল্য কমে যায়। এতে এতিম-গরিবরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে চামড়া ছাড়াতে হবে।  এরপর পচন ঠেকাতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দিতে হবে।

চামড়াসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট কাঁচা চামড়ার  ৬০ শতাংশই আসে কোরবানি থেকে।  কিন্তু সঠিকভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে চামড়ার বিক্রয়মূল্যও কমে যায়।  এতে গরিব-মিসকিন-এতিমরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারণে চামড়া রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও মনোযোগী হতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএফইএ)-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন,  ‘কোরবানিদাতারা যদি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরামর্শ মেনে চলেন, তাহলে দেশের চামড়ায় আর জল ঘোলা হবে না।’

মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন আরও বলেন, ‘চামড়ায় একবার লবণ দিলে পাঁচ মাসেও পচে না।  এতে চামড়া বিক্রির দুশ্চিন্তা কমে। শুধু লবণজাত ওই চামড়া মাদ্রাসাগুলো পরিকল্পনা করে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ সংরক্ষণ করতে পারে।  এরপর ট্যনারি মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাই সরকার নির্ধারিত দামে কিনে নিতে পারবে। ’ এর ফলে দালাল-মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দৌঁরাত্ম্য বন্ধ হবে বলেও তিনি মনে করেন।  

শাহ আলম খান/এনই

রাইজিং বিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়