RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৬ ১৪২৭ ||  ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাইব্যাক আইন প্রণয়নসহ ১৬ দাবি বিনিয়োগকারীদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:০৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৮:৪৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
বাইব্যাক আইন প্রণয়নসহ ১৬ দাবি বিনিয়োগকারীদের

পুঁজিবাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ‘বাইব্যাক আইন’ প্রণয়নসহ ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের কাছে দাখিল করা এক চিঠিতে এসব দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় সংগঠনটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ওমর শরীফ উপস্থিত ছিলেন।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আমাদের চিঠি হাতে পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের বেশিরভাগ দাবির সঙ্গেই তিনি একমত।’ বাইব্যাকসহ অনেগুলো দাবি নিয়ে বিএসইসি কাজ করছে। দাবিগুলো হলো—পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার বৃহত্তর স্বার্থে অতিদ্রুত ‘বাইব্যাক আইন’ পাস করতে হবে। এক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যু মূল্যে অথবা এনএভি‘র ৫ শতাংশের কম—এই দুটির মধ্যে যেটি বেশি হবে সেই মূল্যে শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে। 

বাজারের পতন রোধকল্পে ‘ফ্লোর প্রাইজ’ পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে এবং ১০ টাকার নিচে বা ফেস ভ্যালুর নিচের প্রত্যেকটি শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ভ্যালু ন্যূনতম ১০ টাকায় নির্ধারণ করতে হবে। 

হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত বিএসইসির অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর ২সিসি ধারা মোতাবেক পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানির পরিচালকদেরকে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে এবং এককভাবে পরিচালকগণকে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। যদি কোনো কোম্পানি ও পরিচালক উক্ত পরিমাণ শেয়ার ধারণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। 

স্বল্প মূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া যাবে না। যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে তাদের পরিশোধিত মূলধন কম পক্ষে ২০০ কোটি টাকা হতে হবে। 

রাইট শেয়ার ইস্যু বন্ধ রাখতে হবে। তবে যেসব কোম্পানি পরপর কমপক্ষে ৭ বছর ১০ শতাংশ হারে ক্যাশ ডিভিডেন্ট দিয়েছে/দেবে তাদের ক্ষেত্রে রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে। 

প্লেসমেন্ট শেয়ারের টাকা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন হিসাবে দেখানো যাবে না। কোম্পানিগুলোর প্রতারণার অন্যতম কারণ হলো অবৈধ প্লেসমেন্ট বাণিজ্য। 

বাজারের তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য বিদ্যমান মার্জিন লোন প্রদানের হার ১ : ০.৫% থেকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ১:১.৫ করতে হবে। 
সব ব্যাংককে শেয়ার বাজারে ২০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে।

সকল ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, ইস্যু ম্যানেজারদেরকে শুধু শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের শর্তে প্রচলিত এফডিআরের মতো স্বল্প সুদে এফডিআর, এসটিআর, এলটিআর অথবা নিজস্ব মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি প্রদান করতে হবে।  

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, শেয়ার বাজার এবং ব্যাংকের মানদণ্ডের সাথে তাল মিলিয়ে এ দেশীয় সরকারি-বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য বাস্তবতার আলোকে সময় উপযোগী ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট সৃষ্টি করতে হবে। যাতে ব্যাংক গুলো দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দিতে গিয়ে খেলাপি না হয়ে যায়। আবার ব্যাংকের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও উদ্যোক্তারা যাতে বন্ড মার্কেট থেকে টাকা তুলে দেশীয় উন্নতি, কর্মসংস্থান ও জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি করতে হবে।

যেসকল অডিটর, ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডার রাইটার, অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন কোম্পানি, স্পন্সর মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটপাট করেছে তাদেরকে ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।     

ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট অতি দ্রুত চালু করতে হবে। ওটিসি মার্কেট বন্ধ করে সেখানকার কোম্পানিসমূহকে প্রয়োজনে কিছু ছাড় দিয়ে হলেও মূল বাজারে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি ‘জেড’ ক্যাটাগরি পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। 

বাজারে বর্তমানে লিস্টেড ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে। 

সিডিবিএল, ডিএসই, সিএসইকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হবে। শতভাগ ডিজিটাল, অনলাইন ও আধুনিক সেবার আওতায় তাদেরকে দ্রুত নিয়ে আসতে হবে।

পূঁজিবাজারের প্রধানতম প্রাণশক্তি সেকেন্ডারি মার্কেটকে আরও গতিশীল, প্রাণবন্ত, লাভজনক, নিরাপদ করার জন্য শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। যাতে দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারীরা ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন ও বাজারের পরিধি ব্যাপক হারে বৃদ্ধির জন্য শেয়ারবাজারে আরও বেশি হারে বন্ড ইস্যু, মিউচুয়্যাল ফান্ড ইস্যু, পেনশন ফান্ডে বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ, প্রফেশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অনুমতি দিতে হবে। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিএসইসিতে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা ও পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো পুঁজি ফিরে পেতে শুরু করেছে। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। পুঁজিবাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ১৬ দফা বাস্তবায়ন করা জরুরি।

ঢাকা/এনএফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়