RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

২৫৩ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:৫০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:৩২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
২৫৩ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিমি সুপার মার্কেটের ২৫৩টি দোকান মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভ্যাট আইনে ওই মামলা করা হয়েছে বলে ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি এনবিআর থেকে মামলাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভ্যাট নিবন্ধন না করায় অনিবন্ধিত ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—তুলি শাড়ি, পিন্ধন, নিউ আঁচল, আদরী, অপরূপা শাড়ি, মহসিন’স, মিস আর্ট, ফ্যামিলি ফুড, আল আয়েশা বোরকা, মিউজিক ক্লাব, ড্রিম গার্ডেন, আয়শা বোরকা ফ্যাশন, ইউটেন সিকো, জেএম স্টোর, ঠুমরী, লাইসিয়াম, মিমি জুয়েলার্স, অনন্যা, অংকুর, আফগান বোরকা, নিউ মডার্ন মাহী জুয়েলার্স, তুর্কি ফ্যাশন ১, তুর্কি ফ্যাশন ২, নিউ তুর্কি ফ্যাশন, আরা, নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স ১, নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স ২, বনরূপা জুয়েলার্স, রূপমহল জুয়েলার্স, মোহনা জুয়েলার্স, তরঙ্গ জুয়েলার্স, মদিনা বোরকা, আল ফারিয়াল জুয়েলার্স, ভিক্টোরিয়া, সাফা ফ্যাশন, নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স ৩, কাশ্মির ফ্যাশন, মিনি ইন্ডিয়া, এসপি আশালতা জুয়েলার্স, আল ফ্যাশন জুয়েলার্স, নিউ কনক মালা জুয়েলার্স, সন্দ্বীপ জুয়েলার্স, আরব জুয়েলার্স, হুজুরের দোকান ১, বধূবরণ জুয়েলার্স, টাইম স্কয়ার, জেমস গ্যালারি, ব্লু স্টোন, পূরবী জুয়েলার্স, আইসি, আল মদিনা বোরকা, অঙ্গনা, কটন ইন, স্টেপ ইন, লেডিস গ্যালারি, রেভলন, চ্যালিস, হিপস্ ওয়্যার, কে রহমান কালেকশন, পপস্ টেইলার্স, হিজাব ১, হিজাব ২, কিডস্ অ্যান্ড পপস, আর এক্স সুজ, আল মালেক ১, আল মালেক ২, বো-বে, সু-ডেইজি, গার্লী সুজ, এমকে কালেকশন ১, আর এক্স সুজ, এম কে কালেকশন ২, এক্সক্লুসিভ প্লাস, ফ্যাশন কালেকশন, সু গ্যালারি, ইউর চয়েস, হিল টুটু, নেক্সট কালেকশন, লোটাস, ফ্যাশন ফেয়ার, নিউ অনন্ত সুজ, সু এক্সপ্রেস, রাবা সুজ, তৃষা টেইলার্স, পাপ্পু টেইলার্স, কমপ্লিট ম্যান ১, মেসার্স অনিক্স, হুজুরের দোকান ২, শৈশব, চেনাসুর, হান্টার চয়েস, দি সেল হাউজ, রবিন সুজ, পারি, কমপ্লিট ম্যান ২, পেন্টালোনস, মিনিমুন, স্টাইল কালেকশন, শুচি, থাইসপ, ওপাল হাউজ ১, ওপাল হাউজ ২, স্প্যালাস, আরিজা, ম্যাক, রং বে রং, নিউ চ্যান্সেলর, চলতি ফ্যাশন, মিমি লেডিস টেইলার্স, রিয়া টেইলার্স, ড্রাগন মার্ট, হুজুরের দোকান ৩, জেলোজিয়া, আবির লেডিস টেইলার্স, নেক্সটেল, প্রাবন টেইলার্স, প্যান্ট ফেয়ার, প্রাইম স্টোর, ফেয়ারি লেডিস টেইলার্স, অপ্সরা ফ্যাশন হাউজ, অর্চনা, প্রিয়া টেইলার্স, ললনা টেইলার্স, কারেন্ট বুক সেন্টার, গ্লিমস, প্রেনা টেইলার্স, মায়াবী ফ্যাশন, আলো ফ্যাশন, রুৎমিলা, সাগর টেইলার্স, এম এম টেইলার্স, নিউ কৃষ্ণা টেইলার্স, নকশী টেইলার্স, নিউ মাস্টার টেইলার্স, রিমিক্স টেইলার্স, মিতা স্টোর, আফগান বোরকা, অনিক টেইলার্স, শাওন মনি, অঙ্গসাজ টেইলার্স, সানি টেইলার্স, অন্তর টেইলার্স, পুতুল টেইলার্স, দেবদূত লেডিস টেইলার্স, মেসার্স আচঁল, মেসার্স তন্বী, হ্যাপি টেইলার্স, নাহার আইটি পার্ক, স্টার অন্তর টেইলার্স, নিউ প্রিয়া টেইলার্স, আশরাফিয়া টেইলার্স, উইং প্লেনেট, পূরবী জুয়েলার্স ১, পূরবী জুয়েলার্স ২, পরী লেডিস টেইলার্স, চৌধুরি লেডিস টেইলার্স, তুর্কি ফ্যাশন, নোহা লেডিস টেইলার্স, জৈতা টেইলার্স, শান্তা লেডিস টেইলার্স, মিতা স্টোর, মীম ফ্যাশন, নিউ মনি, অঙ্গনা টেইলার্স, জিপি ধর, ফ্যাশন গার্ডেন, দিগন্ত বোরকা, এরাবিয়ান বোরকা, আঁচল স্যুট, গ্যালাক্সি জুয়েলার্স, নিশা টেইলার্স, নবরূপা লেডিস টেইলার্স, ওমেন্স গ্যালারি, সৌদিয়া বোরকা, আজিজ কর্নার, ইয়ারা জুয়েলার্স, মডার্ন আমানত জুয়েলার্স, নিরব টেইলার্স, আবরণ টেইলার্স, নিউ পুণম জুয়েলার্স, ফ্রেন্ডস ফুড, রূপনগর, দি চিক লেদার, পারু টেইলার্স, লা বেলে রোব, সুবর্ণা, জ্যুতিকা ফ্যাশন, তৃষাজ ক্লজেট, স্টিচ ইন স্টাইল, রূপায়ন টেইলার্স, স্মার্ট ওমেন্স কালেকশন, সালাম টেইলার্স, সেলাইঘর লেডিস টেইলার্স, হাফসা টেইলার্স, নিপা টেইলার্স, চিনা টেইলার্স, চিক টেইলার্স, আলম কর্নার, ময়ূরাক্ষী, মনে রেখ, মো. আবুল কাশেম, সূচি টেইলার্স।

ভ্যাট নিবন্ধিত ৫০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন সনদ ঝুলিয়ে না রাখায় ভ্যাট আইনে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। এই অনিয়মের দায়ে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করার বিধান আছে। 

যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত কিন্তু ব্যবসায়িক প্রাঙ্গণে ভ্যাট সনদ ঝুলায়নি সেগুলো হলো—সাথী, রূপসী, রজনীগন্ধা, সাদমান, মেসার্স তিশা, কানন, জেন ডিপার্টমেন্ট স্টোর, নিউ শাওন ভাদো ১, নিউ শাওন ভাদো ২, কাকন, আঁচল, লাগান, সেন্ট্রাল, বধূ, নিউ আকর্ষণ ১, ইয়াং লেডি, নিউ আকর্ষণ ২, নিউ জারা, জারা, নিপুন, মুম্বাই ফ্যাশন, সবিয়া, নিউ কানন, মানসী, সামস্, বন্ধন, সেভওয়ে, মুফতি, হুজুরের দোকান, ডায়মন্ড জুয়েলার্স, অনামিকা জুয়েলার্স, আছমি জুয়েলার্স, সানন্দা জুয়েলার্স, রাজলক্ষী জুয়েলার্স, মন্দীরা জুয়েলার্স, প্যারাডাইস জুয়েলার্স, চন্দ্রিমা জুয়েলার্স, চন্দ্রিকা জুয়েলার্স, রূপশ্রী জুয়েলার্স, রূপরাজ জুয়েলার্স, তানিশক জুয়েলার্স, পূরবী জুয়েলার্স, নিউ বসুন্ধরা জুয়েলার্স, বিশাল জুয়েলার্স, সঙ্গিনী জুয়েলার্স, এস বি জুয়েলার্স, জান্নাত, কনকচাঁপা, বেস্ট আই সিটি, প্রাচী টেইলার্স।

ভ্যাট গোয়েন্দার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিবন্ধিত ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি ব্যবসার শুরু থেকে তাদের প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে আগে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের পরিমাণ হিসাব করে বকেয়া ও মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদসহ জরিমানা আদায়ের জন্য চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভ্যাট আইনে দায়েরকৃত ২৫৩টি মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে অভিযোগগুলো চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে। 

ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তার দল ৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মিমি সুপার মার্কেট সরেজমিনে পরিদর্শন করে।

ভ্যাটের মামলায় বলা হয়েছে, নাসিরাবাদের বায়েজিদ বোস্তামি সড়কে অবস্থিত মিমি সুপার মার্কেটে ২৬৩টি প্রতিষ্ঠান আছে। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে। তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্রান্ডের বিক্রি করছে। কেউ কেউ পণ্য আমদানির সঙ্গেও জড়িত। 

এনবিআরের নির্দেশে পরিচালিত এই জরিপ অনুসারে, ২৬৩টির মধ্যে নতুন আইনে নিবন্ধিত হয়েছে মাত্র ৬০টি। অবশিষ্ট ২০৩টির নিবন্ধন নেই। তারা ভ্যাটও দেয় না। ওই মার্কেটে এই ২০৩টি দোকান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে। ভ্যাট গোয়েন্দার গোপন তথ্য অনুযায়ী, তারা ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আহরণ করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না। শপিংমলের ৬০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনভুক্ত হলেও অনেকে প্রকৃত বিক্রয় অনুযায়ী রিটার্ন ও ভ্যাট পরিশোধ করছে না। তাদের মধ্যে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট সনদ ঝুলিয়ে রেখেছে। অবশিষ্ট ৫০টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে ভ্যাট সনদ পাওয়া যায়নি। ভ্যাট আইন অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক, যাতে ক্রেতা বুঝতে পারেন, তিনি সঠিক স্থানে ভ্যাট দিচ্ছেন।

ঢাকা/এম এ রহমান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়