RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১২ ১৪২৭ ||  ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে আসছে আরও প্রণোদনা প্যাকেজ

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৫, ২৬ নভেম্বর ২০২০
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে আসছে আরও প্রণোদনা প্যাকেজ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে সরকার জনগণের স্বাস্থ‌্যসুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। করোনার সম্ভাব‌্য দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) সামলাতে আরও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলা এবং টেকসই ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ’ সংক্রান্ত সিরিজ মতবিনিময় সভার প্রথম দিনে বক্তারা এসব তথ‌্য জানান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

সিরিজ মতবিনিময় সভার প্রথম দিনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনীতির সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন—বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেমবোন, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্য সচল আছে। সরকারের প্রচেষ্টায় মানুষ সচেতন হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সফলভাবেই কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশে কোনো পণ্যের সংকট হয়নি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হয়। দেশে ৬৬ দিন সরকারি ছুটি ছিল। প্রয়োজনে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্থনীতির ওপর করোনার ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে অনেক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। সে কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে সরকার দ্বিধাহীন। জনগণের জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রতিটা সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা সার্বক্ষণিক মনিটর করছেন তিনি। মহামারির প্রথম ধাপ অনেকটাই দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি সচল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, সেটা যে যথার্থ ছিল, এখন সেটা অনেকেই অনুধাবন করছেন। সেকেন্ড ওয়েভের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতেও একই ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে।’

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, ‘ভ্যাকসিন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাতে তা বাংলাদেশে আসে, সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও আছে। ভ্যাকসিন পাওয়ার পর যাতে সেগুলো দ্রুত কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।’

জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের পাশে আছে। জাপান সব সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আসছে। চলতি অর্থবছরেই জাপান প্রথম বারের মতো বাজেট সহায়তা দিয়েছে। করোনাকালেও নানা ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

মূল প্রবন্ধে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব করোনভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত আর্থিক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। 

ঢাকা/হাসনাত/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়