Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ৯ ১৪২৮ ||  ১২ জিলহজ ১৪৪২

প্রচারণার অভাবে শেয়ারবাজারে পিছিয়ে নারীরা

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২২, ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ০৪:৩২, ৯ মার্চ ২০২১
প্রচারণার অভাবে শেয়ারবাজারে পিছিয়ে নারীরা

বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেক্টরেই নারীরা এগিয়ে রয়েছেন। দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু অর্থনীতির অন্যতম অনুষঙ্গ শেয়ারবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক অনেক কম। 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা না থাকা শেয়ারবাজারে নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক মন্দা পরিস্থিতি নারীদের এ খাতে বিনিয়োগ ভীতি বাড়ছে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় না থাকায়, নারীরা তাদের সঞ্চয় এখানে বিনিযোগে ঝুঁকি নিতে চান না। এছাড়া তবে শেয়ারবাজারে ঝুঁকি ছাড়াও যে বিনিয়োগ করা সম্ভব সে বিষয়ে প্রচারণা নেই বললেই চলে। 

এ বিষয়টির ওপর শেয়ারবাজারের স্টেহোল্ডাররাও খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। তাই শেয়ারবাজার নিয়ে নারীদের অনীহা বেড়েই চলেছে। ভারতে শেয়ারবাজারের মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে। সেদিক বিবেচনায় দেশের শেয়ারবাজারে নারীদের আকৃষ্ট করতে তেমন কোনো প্রচার নেই।

এক্ষেত্রে নারীদের গচ্ছিত সঞ্চয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে আনতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজসহ সব স্টেকহোল্ডারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।  নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে শেয়ারবাজার আরও সমৃদ্ধ হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া পাশাপাশি বছরজুড়ে নারীদের বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা আয়োজনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নারীরা যে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ করতে বিষয়টি প্রচারের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ- এ ধারণা নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে নারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন।

শেয়ারবাজারের তথ্যভান্ডার হিসবে পরিচিত সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে নারী নিয়োগকারীর সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়েছিল। পরবর্তীতে ধসের পর শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন প্রায় ২ লাখ নারী বিনিয়োগকারী। ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় শেয়ারবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। 

২০১৬ সালের ২০ জুন দেশের শেয়ারবাজারে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৫০টি। এরপর থেকে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়লেও নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা কমতে থাকে।  সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) পর্যন্ত নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৬টি।  ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯০৭টি, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৫টি এবং ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার ৬০৮টি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক পরিচালক ও মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীন রাইজিংবিডিকে বলেন, শেয়ারবাজারে অধিকাংশ নারী প্রাইমারি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে ভালোবাসেন। সে কারণে আইপিও থাকলে তাদের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বাড়ে। আমার মনে হয়, প্রাইমারি মার্কেটের পাশাপাশি নারীদের সেকেন্ডারি মার্কেটেও বিনিয়োগ থাকা দরকার।

মার্চেন্ট ব্যাংক সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানিয়া শারমিন রাইজিংবিডিকে বলেন, শেয়ারবাজারে নারীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে প্রচারণার কার্যক্রম খুবই নাজুক। কিন্তু ভারতে বেশিরভাগ নারী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে থাকেন। তাদের দেশে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে। আগামীতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে নারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

এদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার রাইজিংবিডিকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে নারীদের কীভাবে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। বিআইসিএম ইতোমধ্যে নারী বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কিছু মডিউল তৈরি করেছে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের মতো নারী, সেখানে নারীদের পার্টিসিপেশন কম থাকেলে চলবে না।

নারীদের শেয়ারবাজারে আগ্রহী করতে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, আগামীতে নারীদের জন্য পৃথকভাবে বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।  ইতোমধ্যে ভেঞ্চার ক্যাটালের ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তা ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
 

তানিম/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়