Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৮ ||  ২৩ জিলহজ ১৪৪২

মসলা-চাল-চিনি-সেমাইয়ের দোকানে ভিড়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:০৯, ২০ জুলাই ২০২১

রাত পোহালেই বুধবার (২১ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চলছে জমজমাট পশু কেনা-বেচা। একইসঙ্গে ঈদে আপ্যায়নের অন্যতম অনুষঙ্গগুলো কিনতে মানুষ ছুটছে মুদি দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সুপারশপে। শেষ দিন হওয়ায় মসলা, চাল, চিনি, সেমাই, তেল, ঘিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে বাজারগুলোতে অনেক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আর ভিড় ঠেলেই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, বাসাবো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এ দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন বাজারে কেনা-বেচার ধুম পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সেমাই, চিনি, চাল ও মসলার দোকানগুলোতে।

বিক্রেতারা জানান, আগে কোরবানির ঈদের সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে গরম মসলা, চাল, সেমাই, চিনি কেনার জন্য মানুষের ব্যাপক ভিড় লেগে থাকতো। বিক্রির চাপে দম ফেলার সময় পাওয়া যেত না। কিন্তু করোনার কারণে বিক্রির চাপ কম রয়েছে। করোনা আতঙ্কে মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই আগের মতো আপ্যায়নও নেই। ফলে ঈদের অনুসঙ্গ কেনার চাহিদা অনেকটা কম রয়েছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দোকানগুলোতে এরফান, বনফুল, প্রাণ, ওয়েল ফুড, কুলসন, কিশোয়ান, ড্যানিশ ও প্রিন্স ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। আর ৫০০ গ্রামের স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এছাড়া অন্যদিকে খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। আর খোলা চিকন সেমাই কেজিপ্রতি মান ও দোকান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। এদিকে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকায়।

বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। দুই সপ্তাহ আগে প্যাকেটজাত তেল বিক্রি হচ্ছিল ১৩০ টাকায়। আর গত সপ্তাহ থেকে তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়।

এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে গরম মসলার বিক্রি বাড়েছে। তবে দাম স্বাভাবিক রয়েছে। কেজিপ্রতি জিরা বিক্রি হচ্ছে  ৩৫০-৪০০ টাকায়, কেজিপ্রতি চিনা বাদাম ১২০-১৪০ টাকায়, কেজিপ্রতি কাজু বাদাম ৭০০-৮০০ টাকায়, কেজিপ্রতি কাঠ বাদাম ৫৮০-৬০০ টাকায়, কেজিপ্রতি পেস্তা বাদাম ১৪০০ টাকায়, কেজিপ্রতি এলাচ ২৭০০-৩২০০ টাকায়, কেজিপ্রতি পোস্তা দানা ২৮০০-৩৫০০ টাকায়, কেজিপ্রতি জয়িত্রী ২৮০০-৩৬০০ টাকায়, কেজিপ্রতি লবঙ্গ বিক্রি করছে ১০০০-১২০০ টাকায়, কেজিপ্রতি দারুচিনি ৪২০-৪৫০ টাকায়, কেজিপ্রতি আলুবোখারা ৫০০-৬০০ টাকায়, কেজিপ্রতি কিশমিশ ৩৫০-৪০০ টাকায়, কেজিপ্রতি গুঁড়া দুধ ৬০০-৬৫০ টাকায়, পোলাও চাল ৯০-১০০ টাকায়, ঘি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিলিটার তরল দুধ ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খিলগাঁও বাজারেরে বরিশাল স্টোরের ব্যবসায়ী আলাউল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বরেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে মোটামুটি বেচা-বিক্রি হচ্ছে। করোনার কারণে গত কয়েক বছরে চেয়ে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না।’

আরেক ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনার মধ্যে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। রমজানের ঈদে যে দাম ছিল, এখনও সে দামেই রয়েছে।’

দক্ষিণ বনশ্রী এলকায় আল-মাদানী স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী খন্দকার হাফিজুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে চাল, চিনি, সেমাই, ঘি ও গরম সমলা বেশি বিক্রি হচ্ছে। আজ রাতে বেচা-বিক্রি বেশি হবে।’

ঢাকা/এনটি/এমএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়