Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮ ||  ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

করোনায় ঋণস্থিতি বেড়েছে

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ১৯ অক্টোবর ২০২১  
করোনায় ঋণস্থিতি বেড়েছে

ছবি: ইন্টারনেট

করোনার কারণে সরকারিখাতে ঋণস্থিতি বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ঋণস্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে একলাখ ৩৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। এর ফলে বর্তমানে সরকারের সার্বিক পুঞ্জিভূত ঋণস্থিতি হয়েছে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সঞ্চয়পত্রখাত থেকে। করোনাজনিত কারণে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কারণে ঋণের স্থিতি বেড়ে গেছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত জুন শেষে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি (অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক) দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এর ৩৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর শেষে বা ২০২০ সালের জুন শেষে সরকারের সার্বিক ঋণস্থিতি ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ২০২ কোটি টাকা। যা ছিল জিডিপি’র ৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণস্থিতি বেড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ হাজার কোটি টাকা। জিডিপি’র হিসাবে ঋণস্থিতি বেড়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ২০২০-২০২১ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট পুঞ্জিভূত ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল ৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণের স্থিতি হচ্ছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) অভ্যন্তরীণ পুঞ্জিভূত ঋণস্থিতি ছিল ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের পুঞ্জিভূত স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, করোনা মহামারির কারণে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক ঋণস্থিতি বেড়েছে। তবে এটি এখনো ঝুঁকিসীমার অনেক নীচে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘টেকসই ঋণ কাঠামো’র (ডেট সাসটেইনেবল ফ্রেমওয়ার্ক-ডিএসএফ) মানদণ্ড অনুযায়ী, জিডিপি’র ৭০ শতাংশ ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে সরকারের পুঞ্জিভূত ঋণস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণের ঋণের মধ্যে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা সঞ্চয়পত্র খাত থেকেই সরকার ঋণ নিয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ খাতে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা (২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা)।

অন্যদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট গৃহীত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ২৯১ কোটি টাকা)। ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে নেওয়া ঋণের মধ্যে ট্রেজারি বন্ড ও স্পেশাল ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৫১ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ও ‘সুকুক’র মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া অন্যান্য খাত খেকে নেওয়া মোট ঋণের স্থিতি হচ্ছে ৪৪ হাজার ৩১ কোটি টাকা।

ঋণস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা (২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা)। এর মধ্যে বহুপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং দ্বি-পাক্ষিক ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়