ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১২ ১৪২৮ ||  ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৪, ২৯ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:২৪, ২৯ নভেম্বর ২০২১
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের উদ্যোক্তারা

ডিসিসিআই কার্যালয়ে তুরস্কের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের উৎকৃষ্ট গন্তব্যস্থল আখ্যায়িত করে এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের উদ্যোক্তারা।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক নীতি ও আইনি কাঠামো এবং সার্বিক বাণিজ্যিক পরিবেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সহায়ক বলেও মনে করেন তুর্কি উদ্যোক্তারা।

তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৬.৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয় ২৩৩.৪১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। তুরস্কে রপ্তানি করা হয় ৪৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৪৯৯.৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বোঝা যায় যে, তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ, রেলওয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রভৃতি খাত বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অন্তত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি। বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে তুর্কি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিক জানান, প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাবে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি বেশ কম। তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রতি তুরস্কে ‘বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তুরস্ক পৃথিবীর বৃহত্তম দশ অর্থনীতির অন্যতম হওয়ার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দুই দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত বেশ সম্ভাবনাময়, উল্লেখ করে এ দেশে বিনিয়োগ করতে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কে উৎপাদিত যন্ত্রপাতি বিশ্বমানের হলেও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যক্তিরা বেশি হারে তুরস্কের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারেন।

রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান জানান, তুরস্কের বেশকিছু কোম্পানি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগামীতে এ কার্যক্রমের আরও সম্প্রসারণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তুরস্কের দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কেনান কালাইসি জানান, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। শিগগিরই দুই দেশের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশাবাদী তিনি।

শিশির/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়