ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৫ ১৪২৮ ||  ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মোংলা-পাকশী নৌরুট প্রকল্পের বাড়তি ব‌্যয় একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ৮ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:১২, ৮ ডিসেম্বর ২০২১
মোংলা-পাকশী নৌরুট প্রকল্পের বাড়তি ব‌্যয় একনেকে অনুমোদন

ফাইল ছবি

মোংলা বন্দর থেকে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌ-রুটের নাব্যতা উন্নয়ন প্রকল্পটিতে সংশোধন আনা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৩৩৪ কোটি টাকা। যা প্রকল্প অনুমোদনের সময় ছিলো ৯৫৬ কোটি টাকা। 

প্রথম সংশোধনী এই প্রকল্পটি গতকাল মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, নৌ-সহায়ক সাংকেতিক মার্কা বয়া-বাতিসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি স্থাপনের বিষয়টি নৌ-কল্যাণ পরিদপ্তরের পরিবর্তে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌপথ সংরক্ষণ বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, ইকো সাউন্ডার ও জিপিএস, অফিস ফার্নিচার, জলযান মেরামত, কম্পিউটার ও অফিসের অন্যান্য আসবাবপত্র মেরামত, ভ্রমণ ভাতা, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, পানি, ডাক, কুরিয়ার, মুদ্রণ ও বাঁধাই, স্ট্যাম্প ও সিল, অন্যান্য মনিহারি, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অঙ্গসমূহ নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে যার ফলে ব্যায় বেড়েছে। 

এছাড়া স্পিড বোটের পরিবর্তে ক্রেবিন ক্রুজার অন্তর্ভূক্তির ফলে ব্যয় বৃদ্ধি, আউটসোর্সিং জনবলের বেতন-ভাতাদি বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি; মেইনটেইনেন্স ড্রেজিং, নৌ-চলাচল সহায়ক সরঞ্জামাদি, অফিস ভাড়া, অফিস ডেকোরেশন/অনাবাসিক ভবন মেরামত, ফসলের ক্ষতিপূরণ, সম্মানি ভাতা ও অন্যান্য অঙ্গের পরিমাণ/সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সকল অঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি; এবং কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি অঙ্গে ব্যয় হ্রাস ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে ।
 
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী মালামাল পরিবহনসহ যাত্রী পরিবহন নিরাপদ ও সহজ করার লক্ষ্যে মোংলা বন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত সারা বছর নদীর নাব্যতা ৪.৫০ মিটার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ।

প্রকল্প এলাকাগুলো হলো— ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৪টি জেলার ৪০টি উপজেলা। বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৭ হতে জুন ২০২৫ পর্যন্ত। প্রকল্পটির অর্থ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে করা হবে। প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (এডিপি পৃষ্ঠা নং ১৮০, ক্রমিক নং ২২৩)।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমসমূহ হলো- (ক) ৮৭০ কিলোমিটার হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ; (খ) ৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষতিপূরণ; (গ) ১৫০ লক্ষ বর্গমিটার প্রকৌশল জরিপ; (ঘ) ১৪ লক্ষ ঘনমিটার মাটির ডাইক নির্মাণ; (ঙ) ৬৪.০৬ লক্ষ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং; (চ) নৌ চলাচল সহায়ক সরঞ্জামাদি ক্রয়; (ছ) ৪৫৭.২৭ লক্ষ ঘনমিটার মেইনটেন্যান্স; (জ) ৩.২০ লক্ষ ঘনমিটার বাঁশের পাইলিং ও তর্জার বেড়া নির্মাণ; (ঝ) জীপ, ডাবল কেবিন পিক-আপ, কেবিন ক্রুজার ও মটর সাইকেল ক্রয়; এবং (ঞ) পরামর্শক সেবা ক্রয় ইত্যাদিসহ আনুষঙ্গিক কাজ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী মালামাল পরিবহন নিরাপদ ও সহজতর করা সম্ভব হবে। তাছাড়া, মোংলা বন্দর হতে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌ-রুটের নাব্যতা উন্নয়ন ঘটবে। তাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘মোংলা বন্দর হতে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌ-রুটের নাব্যতা উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি মোট ১২৯০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৭ হতে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একনেক অনুমোদন করা হয়েছে।’

হাসিবুল/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়