ঢাকা     সোমবার   ২৩ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯ ||  ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

ডেল্টা লাইফের প্রশাসকের আমল: কোটি কোটি টাকা আইনি ব্যয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৪৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২২  
ডেল্টা লাইফের প্রশাসকের আমল: কোটি কোটি টাকা আইনি ব্যয়

নানা অনিয়মের অভিযোগে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একজন নয় গত ১১ মাসে তিন জন প্রশাসক বসানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। আর এই প্রশাসকের আমলে আইনি ব্যয় দেখানো হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মাসে প্রশাসক নিয়োগের পর আইনি ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দিনে আইনজীবিদের বিল বাবদ আইনি ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। শুধুমাত্র ১২ জানুয়ারি একটি মামলার শুনানির দিন ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অথচ ওইদিন আলোচ্য মামলাটি শুনানি হয়নি।  শুনানি না হলেও এসব অর্থ নামে-বেনামে কিছু অসাধু কর্মকর্তা তসরুপ  করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অর্থ কোম্পানির প্রশাসক, লিগ্যাল বিভাগের কনসালটেন্ট এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ব্যয় দেখানো হয়েছে।

এদিকে, গত ৬ জানুয়ারি পরিচালকদের পক্ষে করা রীটে আদালত কোম্পানির প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ বলে আদেশ দেয়। এই আদেশ পরবর্তীতে আপিল বিভাগ স্থগিত করে রোববার ২৩ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন।

এ বিষয়ে ডেল্টা লাইফের প্রশাসক মো. কুদ্দুস খান এর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, কোম্পানিটিতে প্রথম প্রশাসক বসানো হয়েছে ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। ওই বছরই ৯ জুন দ্বিতীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম দুজন তেমন কিছু করতে না পারায় তৃতীয় প্রশাসক বসানো হয়েছে গত বছরের ১৩ অক্টোবর। আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান উল-আবেদীন মোল্লাকে প্রথম, সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলামকে দ্বিতীয় এবং আইডিআরএরই আরেক সাবেক সদস্য ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. কুদ্দুস খানকে তৃতীয় প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। আর এসব প্রশাসকের আমলেই কোটি কোটি টাকা আইনি ব্যয় দেখানো হয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। এর মধ্যে নামে-বেনামে সবচেয়ে বেশি ব্যয় দেখানো হচ্ছে বর্তমান প্রশাসকের আমলে।

ডেল্টা লাইফ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। নানা অনিয়ম ও নামে-বেনামে অতিরিক্ত অর্থ কোম্পানি থেকে চলে গেলে বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা/এনএফ/নাসিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়