ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৫ ১৪২৯ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

ডলারের লাগাম টানতে এবার মুনাফার হার নির্ধারণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১৪ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২১:৪৪, ১৪ আগস্ট ২০২২
ডলারের লাগাম টানতে এবার মুনাফার হার নির্ধারণ

দেশে ডলার সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এবার ডলারের দামের লাগাম টানতে মুনাফার হারও নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

রোববার (১৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) বৈঠকের এমন দাবি ওঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুনাফার হার নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার কিনবে, তার সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের একটি সিলিং করতে হবে। সব ব্যাংক এটি ফলো করবে বলে তারা জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয়ের ডলার যাতে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনে সে বিষয়ে বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ডলারের সরবরাহ বাড়বে। তাছাড়া বাফেদা ও এবিবিকে খুব দ্রুত ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা অচিরেই ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করতে কাজ করবে বলে একমত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা রোধের বিষয়েই আলাপ হয়েছে। সেখানে ডলার ক্রয়-বিক্রয়ে কী পরিমাণ মুনাফা করা যাবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, যে দরে ডলার কেনা হবে তার চেয়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা বেশি দরে বিক্রি করা যাবে। তাতে ডলারের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করছেন তারা। তাছাড়া রপ্তানি আয় দ্রুত দেশে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে। তাতে ডলার সরবরাহ বাড়বে, স্থিতিশীল হবে ডলারের বাজার।

এদিকে, আন্তঃব্যাংক ডলারের দাম ৯৫ টাকা হলেও গেল সপ্তাহে খোলা বাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় ওঠে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তবে রোববার খোলাবাজারেও ডলারের দাম কমে ১১৩ থেকে ১১৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ডলার সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন টিমও কাজ করছে। ডলারের সংকট ও কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় ধারাবাহিকতায় ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের অপসারণ, ৫টি মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স স্থগিত এবং ৪৫টি মানি এক্সচেঞ্জ হাউজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যাতে কেউ কৃত্রিমভাবে ডলার সংকট না করতে পারে তার জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্মেও নজরদারি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এনএফ/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়