ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৯ ||  ০২ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

পিপিপি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ‘মিরপুর আবাসন প্রকল্প’

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৮, ১৬ আগস্ট ২০২২  
পিপিপি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ‘মিরপুর আবাসন প্রকল্প’

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ‘মিরপুর ইনটিগ্রেটেড টাউনশিপ ডেভেলপমেন্ট (এমআইটিডি ফেস-ওও)’ প্রকল্প। এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৬২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় মিরপুরে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বুধবার (১৭ আগস্ট) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে ঢাকা শহরের আবাসন সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর ৯ নম্বর থেকে ১১ নম্বর সেকশনে ৮০ একর জমির উপর ১০৭টি ১৪-তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ‘মিরপুর ইনটিগ্রেটেড টাউনশিপ ডেভেলপমেন্ট (এমআইটিডি ফেস-ওও) প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল।

প্রস্তাবক মন্ত্রণালয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ মিরপুর এলাকায় ১৫৪৫ বর্গফুট, ১৩৩৮ বর্গফুট এবং ৮৭৮ বর্গফুট বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের চাহিদা আছে। প্রকল্প এলাকাটি মিরপুর ডিওএইএস সংযোগকারী ১০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া, বর্তমানে ঢাকা শহরের নির্মাণাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পটিও ওই এলাকার কাছে। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং আবাসিক ফ্ল্যাটের চাহিদাও বাড়বে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ১৫৪৫ বর্গফুট ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ভবন ৬১টি, ১৩৩৮ বর্গফুট ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ২৩টি এবং ৮৭৮ বর্গফুট ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ২৩টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ৬২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং প্রাথমিকভাবে প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটি জি-টু-জি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতি অনুসরণ করে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং সিঙ্গাপুর সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে নীতিগত অনুমোদনের জন্য ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভায় প্রস্তাবটিতে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এর আগে প্রকল্পটি জি-টু-জি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর বোর্ডের (আইই সিঙ্গাপুর) সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এমওইউ ছিল ২ বৎসর।

সূত্র জানায়, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর–পিপিপএ‘র সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি ওয়ার্কশপ হয়। এর পর সিঙ্গাপুরের দুজন বিনিয়োগকারী ২০১৮ সালের নভেম্বর ও ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখে এমওইউ থেকে প্রকল্প প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করে।

এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, প্রকল্পটি জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য এন্টাপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই বছর মেয়াদের জন্য এমওইউ-টি ২০১৮ সালের ১২ মার্চ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখে এমওইউ থেকে প্রকল্পের নাম প্রত্যাহারের জন্য এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর অনুরোধ করে। প্রকল্পটি জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নর জন্য নতুন কোনো দেশ থেকে কোনো প্রকার অফার পাওয়া যায়নি বলে পিপিপিএ থেকে জানানো হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২২২তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্তক্রমে ‘মিরপুর ইনটিগ্রেটেড টাউনশিপ ডেভেলপমেন্ট (এমআইটিডি ফেস-ওও)’ শীর্ষক প্রকল্পটি জি-টু-জি ভিত্তিতে পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে।

হাসনাত/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়