ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯

এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম তন্তু পোশাকে বিনিয়োগের আহ্বান

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ৫ অক্টোবর ২০২২  
এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম তন্তু পোশাকে বিনিয়োগের আহ্বান

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ের জন্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ম্যান মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক তৈরি পোশাকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা প্রয়োজন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এই মন্তব্য করেন।

কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক ও বিজিএমইএ-এর সভাপতি ফারুক হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব শরিফা খান।

কর্মশালার মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) এর চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। এছাড়া বিজিএমইএ-এর পরিচালক আসিফ আশরাফ একটি পেপার উপস্থাপন করেন।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী রফিকুল হাসান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এর পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরডি-এর অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি-এর প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা ম্যান মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক তৈরি পোশাকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা। 

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) যৌথভাবে ‘ম্যান-মেইড ফাইবার ফর মুভিং আপ দ্যা ভ্যালু চেইন অব আরএমজি ইন দ্যা কনটেক্সট অব এলডিসি গ্রাজুয়েশন’- শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্ব বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে উল্লেখ্য যে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসমূহ যেমন প্রিফারেনশিয়াল রুলস অব অরিজিন ও শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারাবে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের বিশাল অবদানের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে তৈরি পোশাক শিল্পেই।

তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাকের বাজারে কটন বা প্রাকৃতিক তন্তুর বদলে ম্যান মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত তৈরি পোশাকের সিংহভাগই হচ্ছে কটন বা প্রাকৃতিক তন্তুভিত্তিক।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে কটনের বদলে ম্যান মেইড ফাইবার-এর দিকে ক্রমশ ঝুঁকতে পারলে তা বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধিতে ও বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে রুলস অব অরিজিন এর কঠোরতর মানদণ্ড পূরণে ম্যান মেইড ফাইবার ভিত্তিক পোশাক পণ্য অধিকতর সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ম্যান মেইড ফাইবার ভিত্তিক পোশাকপণ্যের উত্তরোত্তর প্রসারের উদ্দেশ্যে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে প্রয়োজনীয় মতো বিনিময় ও পর্যালোচনার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভাষণে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ম্যান মেইড ফাইবার ব্যবহার করা হলে তৈরি পোশাক খাতে বহুমুখীকরণ আরও তরান্বিত হবে। একই সঙ্গে ম্যান মেইড ফাইবারভিত্তিক তন্তু ও কাপড়ের শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হলে আমাদের  ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ আরও শক্তিশালী হবে।

ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকপণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পোশাকের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ম্যান মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের বাজারের সম্ভাবনাকে বেশি করে কাজে লাগাতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক তার বক্তৃতায় টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি ফারুক হাসান তার বক্তৃতায় উত্তরণ পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতির লক্ষ্যে তৈরি পোশাক খাতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট আমদানি রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করতে ও লজিস্টিক খাতে আরও উন্নতির ওপর জোর দেন।

/হাসনাত/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়