ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের জোগান বাড়াবে মুদ্রানীতি’

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৯, ৩১ জুলাই ২০২০  

বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) জন্য সময়োপযোগী ও বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এ মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের জোগান বাড়াবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর জন্যই ব্যাংক রেট এবং রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানো হয়েছে এবারের মুদ্রানীতিতে। প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে, যা পুঁজিবাজার সম্প্রসারণ ও গতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে ব্যাংক রেট এবং রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানোর কারণে শেয়ারবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়বে। এতে মুদ্রানীতি শেয়ারবাজারের জন্য খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে। মুদ্রানীতিতে ব্যাংকের সুদ হার কমানোর কারণে শেয়ারবাজারে তারল্যের প্রবেশ বাড়বে এবং ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বাড়াতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মামুন-উর-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বাড়বে। পাশাপাশি মুদ্রার সরবরাহের খরচও কমতেছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এর সুবাতাস পুঁজিবাজারসহ সব খাতে আসবে। বিশেষ করে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর জন্যই ব্যাংক রেট এবং রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানো হয়েছে। ফলে মুদ্রার সরবরাহ বাড়লে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের জোগান বাড়বে। এতে সর্বপরি পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।  

ঢাকা স্টক এস্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, মুদ্রানীতিতে বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছে মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে মুদ্রার সরবরাহ বাড়বে। এছাড়া রেপোর সুদহার কমায়, আগের চেয়ে সাশ্রয়ীভাবে জরুরি তহবিল নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদহার কমায় ব্যাংকগুলো উদ্বৃত্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখাকে কম লাভজনক মনে করবে। ফলে নতুন মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতেও ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, এ প্রথমবার পুঁজিবাজারের জন্য যথেষ্ট সময়োপযোগী মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের মুদ্রানীতিতে মুদ্রার সরবরাহ তথা তারল্য বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে গতি আসবে। কেউ কেউ যদিও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন, তবে করোনা সংকটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এতটুকু ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাংক রেট, রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার কমানো হয়েছে। এছাড়া এখন তারল্য প্রভাব ভালো রয়েছে, কল মার্কেটের রেট অনেক কম রয়েছে। সে হিসেবে এবারের মুদ্রানীতিটা পুঁজিবাজারের জন্য সময়োপযোগী হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ব্যাংক রেট ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫ থেকে তা ৪ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ১৭ বছর পর ব্যাংক রেট কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর তহবিল খরচ কমানোর পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী তারল্য সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষে মুদ্রানীতিতে এক দিন মেয়াদী রেপোর সুদ হার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর রিভার্স রেপোর সুদহার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে নামিয়ে আনা হয়েছে ৪ শতাংশে।

 

এনটি/এসএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়