ঢাকা, বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কাছে অসহায় ছিলেন প্রভোস্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১০ ৬:২১:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১০ ৬:৫৩:০০ পিএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনের পর জরুরি সাধারণ সভা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সেখানে আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর রুম দখল, কার্যালয় স্থাপন, ছাত্রনেতাদের রুমে এসি লাগানো, মাদকসেবনের মতো বিষয়গুলোর চিত্র তুলে ধরা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল ভবনের সেমিনার কক্ষে বুধবার এ জরুরি সভা হয়।

বৃহস্পতিবার ওই সাধারণ সভার রেজুলেশন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ।

তিনি জানান, ওই সভায় শিক্ষকরা আবরারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আবরারকে স্মরণ করে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

সভায় বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্টসহ আবাসিক শিক্ষকরা হলগুলোতে ঘটা নির্যাতন ও র‌্যাগিংয়ের নানা ঘটনা এবং বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রাক্তন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এবং উপাচার্য সাইফুল ইসলামকে জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়। আলোচনায় রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠগুলোর কাছে হল প্রভোস্ট এবং সহকারী প্রভোস্টদের অসহায়ত্বের চিত্র উঠে আসে।

অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ বলেন, আবরার হত্যার পর শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট উপাচার্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও উপাচার্য কোনো সাড়া দেননি। উপাচার্য একবারের জন্যও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। বুয়েটে আবরার ফাহাদের জানাজায় অংশ নেননি। তার বাবা-মাকেও সমবেদনা জানাননি। তিনি আবরারের পরিবারের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তার এই অমানবিক আচরণ বুয়েটকে দেশবাসীর কাছে হেয় করেছে। সামগ্রিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সব ধরনের নির্যাতন, বেআইনি কার্যক্রম এবং বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।



ঢাকা/নূর/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন