ঢাকা, সোমবার, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ঐ‌তিহ্য ফে‌লে কেরানীগঞ্জ যা‌চ্ছে জ‌বি?

জবি প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২২ ৮:২৭:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৩ ৮:৪৪:৩৪ এএম

পুরনো ঢাকার প্রাণ অনেক ইতিহাস আর বিশিষ্টজনদের স্মৃতিবিজড়িত বিদ‌্যাপিঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ‌্যালয় কি পুরোপুরি কেরানীগঞ্জে চলে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ আছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এই ক্যাম্পাস স্থানান্তর নিয়ে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসের সাথে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে নানান স্মৃতি। এই ক্যাম্পাস আমরা কখনো ছেড়ে দিতে চাই না। তবে কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পাস একটা পূর্ণ ক্যাম্পাস কিন্তু এই ক্যাম্পাস ধারণ করে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্য। নতুন ক্যাম্পাস হতে আরও বছর পনেরো সময় লাগবে। তখন ছাত্রদের দাবিতে হয়তো যে সরকার ক্ষমতায় থাকবেন, তিনি এই ক্যাম্পাস হস্তান্তরের বিষয়টি দেখবেন।’

জবি ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি প্রসেনজিৎ বলেন, ‘ইতিহাস এই জগন্নাথের কথা বলে, কেরানীগঞ্জের নয়। আমরা সেটাকে ২য় ক্যাম্পাস বলতে পারি, কিন্তু এই ক্যাম্পাস ছেড়ে ওখানে যেয়ে নয়। ২০১৬ এর আন্দোলনে আমরা কারাগারের জায়গা চেয়েছিলাম হলের জন্য, তা হয়নি। অন্যদিকে ছাত্রীহল এখানে, কিন্তু ক্যাম্পাস কেরানীগঞ্জে। আমরা চাই এই ক্যাম্পাসসহ কেরানীগঞ্জের এলাকা। জগন্নাথ একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান,  ছাত্রদের সাথে কথা না বলে প্রশাসন এই ক্যাম্পাসের বিনিময়ে কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পাস নিতে পারেনা।’

জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কে.এম মুত্তাকী বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে এই ক্যাম্পাস বর্ধিত হতে পারে কিন্তু হস্তান্তর নয়। প্রশাসন নিজের মতো করে ক্যাম্পাস লিখে দিলে ছাত্ররা পরবর্তীতে অবশ্যই আন্দোলনে যাবে। ’

জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ রাসেল বলেন, আমরা কখনোই এই ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে চাই না, এই ৭একর ক্যাম্পাস আমাদের সম্পদ, এটি ছেড়ে আজ থেকে দশ বছর পর আমি আমার অচেনা ক্যাম্পাসে যেয়ে কিভাবে স্মৃতিচারণ করবো! আমরা আগেও প্রতিবাদ জানিয়েছি, এখনো জানাই এই ক্যাম্পাস যেন হস্তান্তর না হয়।

তবে ‌ক‌্যাম্পাস স্থানান্তরে ১০/১৫ বছর সময় লেগে যাবে বলে তা নিয়ে বিশ্ববিদ‌্যালয় প্রশাসন ভাবতে রাজি নয়। এই জমি স্থানান্তরের বিষয়ে জবি রেজিস্ট্রার ওহিদূজ্জামান বলেন, এটা সরকারের জায়গা, সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবে হবে। সরকার কি করবে সেটা সরকার বলতে পারবে। ’

তিনি আরও বলেন, এটা ১০ বছর পরের বিষয়। তখন যারা প্রশাসনে থাকবে, তারা দেখবে।

এ বিষয়ে জবি ভিসি ড. মীজানুর রহমান বলেন, এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই থাকবে, ১০ বছর পর কি হবে সেটা সরকারের দেখার বিষয়, এখন এটা ভাবার বিষয় না।

জগন্নাথ বিশববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় সেই ১৮৫৮ সালে, স্কুল থেকে কলেজ, এরপর বিশবিদ‌্যালয়। স্মৃতির এই জগন্নাথে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী), রফিকউদ্দিন আহমদ (ভাষা শহীদ), জহির রায়হান (কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক), জয়নুল আবেদীন (চিত্রশিল্পী), এটিএম শামসুজ্জামান (অভিনেতা), ইমদাদুল হক মিলন (লেখক , সম্পাদক - দৈনিক কালের কণ্ঠ), বিপ্লব (শিল্পী), যাদুকর জুয়েল আইচের মতো শত শত দেশবরেণ‌্য ও মেধাবী শিক্ষার্থী।

নতুন নতুন বিষয়ে বিভাগ চালুতে স্থানসংকুলানের সমস‌্যা দেখা দেয়ায় ও শিক্ষার্থীর সংখ‌্যাবৃদ্ধির সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের হলের সংকটে বর্তমান ক‌্যাম্পাসের আশপাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না পাওয়ায় এর আগে বিশ্ববিদ‌্যালয়টি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করে পুর্নাঙ্গ ক‌্যাম্পাস করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।


জবি/তমাল/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন