ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

দু’ ইউনিটে ফেল, অন্য ইউনিটে রেকর্ড মার্কস!

বেরোবি প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৪ ১০:৩৪:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৫ ৮:২২:০৭ এএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি পরীক্ষায় দুইটি ইউনিটে ফেল করলেও ‘বি’ ইউনিটে (সামাজিক বিজ্ঞান) মানবিক থেকে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম হয়েছেন মোছাম্মদ মিশকাতুল জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী।

‘বি’ ইউনিটে তিনি যে পরিমাণ মার্কস পেয়েছেন, অন্য কোনো ইউনিটের কোনো শিফটে কেউ সে পরিমাণ মার্কস তুলতে পারেনি। মিশকাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বোন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

জানা যায়, মিশকাতুল জান্নাত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় এ, ‘বি’ এবং ‘এফ’ ইউনিটে অংশ নেন। গত ১৯ নভেম্বর সকল ইউনিটের ফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় শিফটে অংশ নিয়ে (রোল-১৪১৭৫২) অকৃতকার্য হন মিশকাত। একইভাবে ‘এফ’ ইউনিটেও চতুর্থ শিফটে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-৬৪১৭৫১) অকৃতকার্য হন তিনি।

অথচ ‘বি’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান) মানবিক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মিশকাতুল জান্নাত এমসিকিউয়ে ৮০ এর মধ্যে ৬৭.২৫০ পেয়েছেন। যা অন্য কোনো ইউনিটে আর কেউ পায়নি। তার ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষার রোল-২৪০২৭৮।

মিশকাতুল জান্নাত বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের এনামুল বারীর মেয়ে। জান্নাতের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সে দ্বিতীয় মেয়াদে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জান্নাতের বড় বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। নিজের ছোটবোন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারী ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারীর সাথে যোগাযোগের জন্য অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে ও এসএমএস দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক সোহেলা মুশতারী বলেন, ‘ইমরানা বারীর ছোটবোন এখানে পরীক্ষা দিয়েছে সেটা আমাদেরকে তিনি লিখিতভাবে জানাননি। যখন ওই অ্যাডমিশনের জন্য আসল, ওকে আমরা চিনতাম। ফেসবুকে ছবি দেখেছি। ওকে (মিশকাতুল জান্নাত) দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি যে, এই মেয়ে এখানে কেন? এবং মোটেও আমরা খুশি হইনি। সত্যিকারার্থেই আমরা খুশি হইনি।’

খুশি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


বেরোবি/নবাব শরীয়তুল্লাহ/মাহি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন