ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৭ ||  ০৬ সফর ১৪৪২

করোনায় আটকে আছে বিদেশে উচ্চশিক্ষা

আবু বকর ইয়ামিন  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৫, ৫ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
করোনায় আটকে আছে বিদেশে উচ্চশিক্ষা

করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশের শিক্ষা খাত। এরমধ‌্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়েছে। অনেকে বিশ্বের নামিদামি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে স্কলার শিপ পেয়েও বিদেশে পাড়ি দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।    

জানা গেছে, প্রতিবছর ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পাড়ি দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকে বৃত্তি নিয়ে বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।  পড়ালেখা শেষে কেউ কেউ সেসব দেশেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন।

ইউনেস্কোর ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকসের (ইউআইএস) এক প্রতিবেদন বলছে, ২০০৫ সালে বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন ১৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।  ২০১৭ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ হাজারে।  ২০১৯ সালে এসে তা লক্ষাধিকে দাঁড়িয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে জানা গেছে, প্রতিবছর ইউজিসির মাধ্যমে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে কমনওয়েলথ বৃত্তি ও ইউজিসি বৃত্তির আয়োজন করা হয়।  এতে কয়েক হাজার গবেষক অংশ নিলেও মাত্র  শ’খানেক এই  সুযোগ পান।
ইউজিসি-সূত্র জানায়, গতবছর ইউজিসির আয়োজনে কমনওয়েলথ স্কলার শিপে মোট ৬৩ জন নির্বাচিত হয়েও করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।  তবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কিভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে ইউজিসি।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে ডিগ্রি নিতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশের বর্তমান গন্তব্য মালয়েশিয়া। ২০১০ সালে যেখানে মালয়েশিয়াগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭২২, ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজারে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর অনেকে বিনা খরচে ডিগ্রি লাভের সুযোগ পান।  করোনার কারণে এসব চুক্তি বিষয়ে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয়নি।’

সচিব আরও বলেন, ‘বিদেশে ডিগ্রি নিতে গত বছর অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বৃত্তি সুবিধা পেয়েও করোনা পরিস্থিতির কারণে এখনো যেতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দেশে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেমিস্টার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিকল্পে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে যেতে চুক্তিভিত্তিক দেশগুলো থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, আমরা এ প্রস্তাব মেনে নেইনি। ’ তবে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কিভাবে সচল রাখা যায়, সে চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। 
 

ইয়ামিন/এনই
 

রাইজিং বিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়