Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ মে ২০২১ ||  চৈত্র ৩১ ১৪২৮ ||  ০১ শাওয়াল ১৪৪২

অবসরে সৃজনশীল বই পড়ার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

আবু বকর ইয়ামিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৪, ৪ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:২৯, ৪ মে ২০২১
অবসরে সৃজনশীল বই পড়ার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

কেবল পাঠ্যবইয়ের পড়া চাপিয়ে দিলে তার ভালো ফল হয় না বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানবিক করে তুলতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহা ছাড়াও সৃজনশীল বই পড়তে হবে।  

শিক্ষাবিদরা বলছেন, অবসরে সৃজনশীল বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নত চর্চা করতে সক্ষম হবে। এটি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য যেমন কার্যকরী, তেমনি পরিবার ও সমাজের ক্ষেত্রেও ভালো প্রভাব বিস্তার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সিলেবাসভুক্ত বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানমূলক বই পড়তে হবে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ভ্রমণ-কাহিনি, ইতিহাস ও শিক্ষামূলক বইও পড়তে হবে।  এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জ্ঞানের প্রসার ঘটবে। আগামীর প্রজন্ম বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হবে।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাস্তবজগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে, আমরা তাদের মেধাবী করে তুলছি। দেশের প্রতি ভালোবাসা শেখাচ্ছি, না কি জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতি ঠেলে দিচ্ছি।’

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নিজেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তৈরি করা বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইকরামুল কবির। তিনি বলেন,  ‘শুধু সনদ অর্জন নয়। শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। নিজেকে দেশ ও সমাজের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এর জন্য পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি অন্যান্য বিদ্যাও অর্জন করতে হবে। এতে আগামী দিনের জন্য নিজেকে এগিয়ে রাখা সম্ভব হবে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘মেধার বিকাশের জন্য যত রকম লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চার সুযোগ রয়েছে। বাবা-মায়েরা সন্তানদের এখন বইমেলায় নিয়ে যান। ছেলেমেয়েদের জন্য পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই কিনে দেওয়ার প্রতি মনোযোগী হচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইগুলো পড়তে আগ্রহী করতে হবে। এর ফলে মেধা, জ্ঞান ও মননের বিকাশ হবে।’

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘মনন মানুষের মেধাকে বিকশিত করে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারমুখী করতে হবে। এখনকার শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে আসে না। বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার, পাবলিক লাইব্রেরিতে পরীক্ষার্থীরা ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীরা বই পড়তে যায় না। অভিভাবকরা সন্তানদের মূল্যবান উপহার সামগ্রী দেন, এর সঙ্গে তাদের বইও উপহার দিতে হবে।’

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সোনার মানুষ হওয়ার জন্য আমি একটি বিষয়ে জোর দিতে চাই, সেটা হলো বই পড়তে হবে।  বই পড়া মানে শুধু ক্লাসের বই পড়া নয়।  ক্লাসের বই ছাড়াও যত রকমের বই পড়া যায় পড়তে হবে। অন্য বই (পাঠ্যবই ছাড়া) পড়তে গেলে অনেক সময় অনেক বাবা-মা বলেন, পড়া (ক্লাসের পড়া) নষ্ট হচ্ছে।  আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, এটি করবেন না। আপনার সন্তান ক্লাসের বই ছাড়াও যত বই পড়তে পারে পড়তে দিন।’

/ইয়ামিন/এনই/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়