Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৩ জুন ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮ ||  ০২ জিলক্বদ ১৪৪২

করোনায় বির্পযপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থাঃ ৬ মাসের সেমিস্টারে দেড় বছর

আবু বকর ইয়ামিন  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০২, ১৩ মে ২০২১   আপডেট: ১৫:২৮, ১৩ মে ২০২১
করোনায় বির্পযপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থাঃ ৬ মাসের সেমিস্টারে দেড় বছর

ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব পড়েছে শিক্ষাখাতে। ছুটি বাড়ানোর সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু হয় অনলাইন ক্লাস। তবে এটি তেমন একটা সুফল বয়ে আনতে পারেনি বলে মত দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এবার এসেছে অনলাইন পরীক্ষার নির্দেশনা। কিন্তু এসবেও শিক্ষাব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

অনলাইন ক্লাস অব্যাহত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরুর পরপরই ক্যাম্পাস ছেড়ে এখনো প্রথম সেমিস্টার শেষ করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত ১৮ মাস ধরে প্রথম সেমিস্টারে পড়াশোনা করছেন। দীর্ঘ এ সময়ে পরীক্ষা না হলেও চলমান ছিল অনলাইন ক্লাস। কিন্তু এ অনলাইন ক্লাস থেকে তারা তেমন কোনো ইতিবাচক ফল পাননি।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা হয় ২০১৯ সালের শেষ কয়েক মাসে। এরপর ২০১৯-এর শেষ এবং ২০২০-এর শুরু দিকে এসব শিক্ষার্থী নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ক্লাস শুরু করেন। কিন্তু দেশে গত বছরের মার্চ মাসে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাবের পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পর আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার কথা রয়েছে। তবে আবারো করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সেটিও এখন অনিশ্চিত ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। অ্যাসাইনমেন্ট নিচ্ছে। একজনের অ্যাসাইনমেন্ট দশজন কপি করে চালাচ্ছি। করোনার বন্ধে আমাদের এ ব্যাচটাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। বন্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও কোন কার্যকরী ফল পাচ্ছিনা। শুনছি এখন অনলাইনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। জানিনা সেটা কতটা ফলপ্রসূ হবে। তবে সেমিস্টার শেষ হওয়া জরুরী।

এদিকে, অনলাইন ক্লাসের পর গত ৬ মে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পরীক্ষারও অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। তবে ইউজিসির এ সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যান করে আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতেই নতুন এ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তারা। তাদের সঙ্গে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীরাও একাত্মতা জানিয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ভর্তি হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রথম সেমিস্টারে পড়ে আছি। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই। আমরা সশরীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই। সব স্বাভাবিকভাবে চলতে পারলে শুধুমাত্র দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটা বসে থাকতে পারে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম শিপন বলেন, বছরের শুরু থেকেই আমরা শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দি। আমাদের খোঁজখবর কেউ নিচ্ছে না। যেখানে আমাদের তৃতীয় সেসিস্টারে থাকার কথা সেখানে আমরা এখনো প্রথম সেমিস্টার শেষ করতে পারিনি। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে, শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া। এভাবে চলতে পারে না।
 

এমএম/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়