ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মেঘে ঢাকা তারা (প্রথম পর্ব)

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৮ ৮:৫৬:৩৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৮ ১২:১২:৪১ পিএম

শোবিজ অঙ্গনে অনেক তারকাশিল্পী রয়েছেন, যারা আকাশের তারার মতো দীর্ঘ সময় জ্বলজ্বল করেছেন। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় কাজ উপহার দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। পর্দায় তাদের দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন দর্শক।

কিন্তু দর্শকপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও শোবিজ থেকে দূরে এই শিল্পীরা। অনেকটা যেন মেঘে ঢাকা তারা। এমন তারকাদের নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

রুমানা খান

এক সময়ের দর্শকপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী রুমানা খান। বিজ্ঞাপনচিত্র ও টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। প্রশংসাও পেয়েছেন। এর মধ্যে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘সেরা পার্শ্ব অভিনয়শিল্পী’ নির্বাচিত হন রুমানা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শোবিজ অঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

২০১৫ সালে বিয়ের পর স্বামী এলিন রহমানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন রুমানা। এটি রুমানার তৃতীয়, এলিনের দ্বিতীয় বিয়ে। গত ২২ অক্টোবর এলিন-রুমানা দম্পতির সংসারে নতুন অতিথি এসেছে। এটি তাদের প্রথম সন্তান।

রুমানার প্রথম বিয়ে হয় উপস্থাপক ও নির্মাতা আনজাম মাসুদের সঙ্গে। পরে সে বিয়ে ভেঙে গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাজ্জাদ নামে ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে। দ্বিতীয় বিয়ে কয়েক বছর টিকলেও ধীরে ধীরে তাদের মাঝে তিক্ততা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রুমানা-সাজ্জাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর রুমানা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে পরিচয় হয় ব্যবসায়ী এলিন রহমানের সঙ্গে। তারপর সংসার পাতেন এই দম্পতি। বর্তমান সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন রুমানা।

ট‌নি ডা‌য়েস

মডেল-অভিনেতা ও নির্মাতা টনি ডায়েস। ১৯৮৯ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের পথচলা শুরু। ১৯৯৪ সালে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় তার। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক-টেলিফিল্ম উপহার দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কয়েকটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ২০০৮ সালে ‘মেঘের কোলে রোদ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ডায়েসের বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এটি নির্মাণ করেন নারগিস আক্তার। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে একই পরিচালকের ‘পৌষ মাসের পিরীত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

২০০৮ সালের শেষের দিকে স্ত্রী পিয়া ডায়েস ও মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তারপর থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে শোবিজে খুব একটা দেখা যায়নি তাকে। এখনো অভিনয়ে সরব নন এই অভিনেতা। আবার অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার বিষয়টিও খুব ক্ষীণ বলে জানা গেছে।

ফয়সাল আহসান

নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল ফয়সাল আহসান। অভিনয় করেছেন টেলিভিশন নাটকেও। তার আরেক পরিচয় তিনি এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের প্রাক্তন স্বামী। বলা যায়, জয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে ফয়সালকে তেমন দেখা যায়নি। শোবিজ অঙ্গনেও তার এখন আর পদচারণা নেই। শুধু তাই নয় শোবিজের আলো থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছেন। বর্তমানে ব্যবসা আর খেলার মাঠে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন ফয়সাল।

শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি

২০০২ সালে আনন্দধারা ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় পঞ্চম রানার আপ নির্বাচিত হন তিন্নি। তারপর র‌্যাম্প মডেলিংয়ের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নির্মিত ধারাবাহিক ‘৬৯’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর অসংখ্য জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটক দর্শকদের উপহার দেন এই অভিনেত্রী। ‘ডুবসাঁতার’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘সে আমার মন কেড়েছে’ চলচ্চিত্রগুলোতে অভিনয় করেন।

২০০৬ সালে অভিনেতা হিল্লোলকে বিয়ে করেন তিন্নি। সেই সংসারে জন্ম নেয় কন্যা ওয়ারিশা। ২০১২ সালে বিচ্ছেদ হয় এই দম্পতির। তারপর শোবিজ থেকে অন্তরালে চলে যান তিনি। ২০১৪ সালে আদনান হুদা সাদ নামের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন তিন্নি। দ্বিতীয় সংসারে আরিশা নামের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে তিন্নির এই সংসারও ভেঙে যায়। ২০১৬ সালে দুটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন তিন্নি। ২০১৭ সালে সর্বশেষ একটি টিভি নাটকে দেখা যায় তাকে। বর্তমানে কন্যা ওয়ারিশাকে নিয়ে কানাডায় বসবাস করছেন তিন্নি। মেয়েকে নিয়ে সেখানে বেশ ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন। তবে অভিনয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

সমু চৌধুরী

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরী। ১৯৮১ সালে যশোর উদীচী শিল্পগোষ্ঠীতে যোগ দেন। দীর্ঘ ৮ বছর উদীচীর সঙ্গে  জড়িত ছিলেন। তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘সমৃদ্ধ অসীম’। এটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এর মাধ্যমে টিভি অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এ নাটকের মাধ্যমে সবার নজর কাড়েন সমু।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো— ‘না’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’, ‘রঙের মানুষ’, ‘জীনের বাদশা’, ‘পৃষ্ঠ’, ‘মা তুরাগ নদী’, ‘দূরের আকাশ’ প্রভৃতি। আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ সিনেমায় তাকে প্রথম দেখা যায়। এছাড়া বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে এখন আর অভিনয়ে সরব নন। দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকার পর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় একটি টিভি নাটকে দেখা যায় তাকে। বর্তমানে অনেকটা অভিমান করেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেতা।

মনির খান শিমুল

একসময়ের জনপ্রিয় মডেল-অভিনেতা মনির খান শিমুল। পেপসির বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে তার মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু। ১৯৯০ সালে মোরশেদ চৌধুরী রচিত ও বরকত উল্যাহ পরিচালিত ‘টেনশন’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে টিভি নাটকে শিমুলের অভিষেক হয়।

তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘একাত্তরের যীশু’। এরপর তিনি মতিন রহমানের ‘মহব্বত জিন্দাবাদ’, হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্যামল ছায়া’, বেলাল আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছোটপর্দার পাশাপাশি শিমুল সর্বশেষ সাইফুল ইসলাম মান্নুর ‘পুত্র’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। কিছুদিন আগে একটি বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে শিমুলকে। তবে এক সময়ে নিয়মিত মুখ শিমুল এখন মেঘে ঢাকা তারার  মতোই মাঝে মাঝে শোবিজে দেখা দেন।



ঢাকা/শান্ত/মারুফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন