RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সম্ভ্রমহানীর ঘটনা নিয়ে বলিউডের সিনেমা

আহমেদ শরীফ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ১৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
সম্ভ্রমহানীর ঘটনা নিয়ে বলিউডের সিনেমা

নারীর সম্ভ্রমহানী নিয়ে দেশ-বিদেশে বহু সিনেমা তৈরি হয়েছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে বলিউডের বেশিরভাগ ছবিতেই ধর্ষণের ঘটনা বা দৃশ্য ছিল অপরিহার্য অংশ। এই ফর্মুলা বাংলাদেশী ছবিতেও দেখা যায়। বিতর্ক আছে, বলিউড ও বাংলা সিনেমায় দেদার এ ধরনের দৃশ্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তবে নারীর শ্লিলতাহানী যে পাশবিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, তা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন। বলিউডে অনেক হিট ছবির কেন্দ্রবিন্দু ছিলো নারীর সম্ভ্রম। ন্যায় বিচার না পেয়ে নায়ককে এজন্য বহুবার আইন হাতে তুলে নিতে হয়েছে। যা সমাজে ক্ষোভ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছে।

নুরি ১৯৭৯ সালের আলোচিত রোমান্টিক সিনেমা। এই সিনেমায় ফারুক শেখের প্রেমিকা পুনম ধীলন সম্ভ্রম হারিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে প্রেমিকার শোকে ফারুক শেখেরও মৃত্যু হয়।

১৯৮১ সালের আরেকটি ট্র্যাজিক ছবি ‘এক দুযে কে লিয়ে’। সুপারহিট ঐ সিনেমায় প্রেমিকা রোতি অগ্নিহোত্রি ধর্ষণের শিকার হন। সিনেমার সমাপ্তি হয় প্রেমিক কমল হাসান ও রোতির আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে।

‘আন্ধা কানুন’ ১৯৮৩ সালের সুপারহিট সিনেমা। ছোটবেলা কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী রজনীকান্তের মা ও বোনকে তারই সামনে ধর্ষণ করে পরিবারের সদস্যদের খুন করে। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় রজনীকান্ত। 

১৯৮৬ সালে নানা পাটেকার অভিনীত আলোচিত সিনেমা  ‘অংকুশ’। মহল্লার এক নারীর সম্ভ্রমহানী ঘটনায় দুষ্ট লোকেরা। তাদের শায়েস্তা করতে, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসে একদল যুবক। পরে অবশ্য আইন হাতে তুলে নেয়ায় সেই যুবকদের শাস্তি পেতে হয়।

অমিতাভ বচ্চন, জয়াপ্রদা ও শ্রীদেবী অভিনীত ১৯৮৬ সালের সুপারহিট সিনেমা ‘আখেরি রাস্তা’। এতে অমিতাভের  স্ত্রী জয়াপ্রদা ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে। অমিতাভ এরপর একে একে প্রভাবশালী সেসব ধর্ষককে অভিনব কায়দায় হত্যা করে। পরে অবশ্য তার পুলিশ অফিসার ছেলে (সে চরিত্রেও আছেন অমিতাভ) গুলি করে হত্যা করে তাকে।

দামিনি ১৯৯৩ সালের হিট সিনেমা। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর মীনাক্ষি জানতে পারে বাড়ির এক কাজের মেয়েকে দেবর ও তার বন্ধুরা ধর্ষণ করেছে। এ নিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে সব প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে আদালত পর্যন্ত যায় মীনাক্ষি।

‘বান্ডিট কুইন’ আশির দশকে ধর্ষিতা নারী ফুলন দেবীর প্রতিশোধ নিতে ডাকাত হয়ে ওঠার সত্য কাহিনী। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। মূল চরিত্রে অভিনয় করেন সীমা বিশ্বাস। সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পায় ছবিটি।

‘দুশমন’ ১৯৯৮ সালে সঞ্জয় দত্ত ও কাজল অভিনীত হিট সিনেমা। ঠান্ডা মাথার নারী লোভীর চরিত্রে দেখা যায় আশুতোষ রানাকে। রানা কাজলের জমজ বোনকে ধর্ষণের পর খুন করে। পরে এক অবসরপ্রাপ্ত, অন্ধ মেজর সঞ্জয় দত্তের সহায়তায়  বোনের হত্যার প্রতিশোধ নেয় কাজল।  ছবিটি হলিউড ছবি ‘আই ফর এন আই’ এর রিমেক।
‘বাওয়ান্ডার’ রাজস্থানের নারী ভাওয়ানওয়ারি দেবির আলোচিত গণধর্ষণ ঘটনা নিয়ে নির্মিত। ২০০০ সালে এই সিনেমায় দীপ্তি নাভাল, নন্দিতা দাস অভিনীয় করেন। সিনেমাটি ইন্টারন্যাশনাল অনেক পুরস্কার জয় করে।

‘ডটার্স অব মাদার ইন্ডিয়া’ সিনেমায় দেখা যায় ২০১২ সালে দিল্লিতে এক মেডিকেল স্টুডেন্ট গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনাটি ঝড় তোলে ভারতজুড়ে। ঐ ঘটনা নিয়ে ‘ডটার্স অফ মাদার ইন্ডিয়া’ ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্মিত হয়, যা পরে জাতীয় পুরস্কার পায়।

‘কাবিল’ হৃতিক রোশান ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত ২০১৭ সালের হিট সিনেমা। ছবিতে দুষ্ট লোকের লালসার শিকার হয় হৃতিকের স্ত্রী ইয়ামি। এরপর সে আত্মহত্যা করে। ক্ষমতাধর হওয়ায় পুলিশ আসামীদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই অন্ধ হলেও অদ্ভুত সব উপায়ে প্রতিশোধ নিয়ে আসামীদের হত্যা করে হৃতিক।
‘মম’ ২০১৭ এর আলোচিত এবং শ্রীদেবীর শেষ সিনেমা। এতে সৎ মাকে অশ্রদ্ধা করা এক তরুণীর ধর্ষণ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। সিনেমার শেষে আইনের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ধর্ষককে গুলি করে হত্যা করে শ্রীদেবী। অনবদ্য অভিনয়ের জন্য প্রশংসার পাশাপাশি বলিউডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর পর সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও পান তিনি।

এছাড়া আঘাজ (২০০০), পিতা (২০০২), জাজবা (২০১৫), ভূমি (২০১৭) সহ বলিউডের অনেক ছবিতেই ধর্ষণ একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।

তথ্যসূত্র: আইএমডিবি, উইকিপিডিয়া

 

ঢাকা/তারা/নাসিম

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়