ঢাকা, রবিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

আহত মন নিয়ে মঞ্চে উঠবেন শিল্পীরা

বিনোদন ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২৩ ১০:৩৭:৫৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২৩ ১১:০১:৫৫ এএম

গত রোববার রাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন অভিনেত্রী-নির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী ইশরাত নিশাত। নাট্যদল দেশ নাটকের দল প্রধান ছিলেন তিনি। শুধু তাই, পুরো নাট্যাঙ্গনের প্রিয় মুখ ছিলেন নিশাত। তার চলে যাওয়া কেউ-ই মেনে নিতে পারেননি। বিশেষ করে দেশ নাটকের সদস্যরা সে শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

দেশ নাটকের নতুন প্রযোজনা ‘জলবাসর’। নাটকটি মঞ্চে আনার জন্য গত ৯ মাস ধরে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দলের সদস্যরা। আগামীকাল নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইশরাত নিশাতের এমন বিদায়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে নাটকটি মঞ্চস্থ না করার সিদ্ধান্ত নেয় দেশ নাটক। নাট্যাঙ্গনের গুণীজনদের পরামর্শে সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতি মন আহত হলেও পূর্ব নির্ধারিত সময়ে মঞ্চে উঠবেন দেশ নাটকের শিল্পীরা। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন ‘জলবাসর’ নাটকের নির্দেশক মাসুম রেজা।

এ নির্দেশক বলেন, ‘‘নিশাত ছিল থিয়েটারের এক ধ্যানমগ্ন যোগী। তার মৃত্যুতে থিয়েটার থেমে যেতে পারে না। নিশাত এক সাক্ষাৎকারে বলেছিল, ‘আমার মৃত্যু হলেও দেশ নাটকের স্বপ্ন থামবে না।’ তাই ‘জলবাসর’ আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে। নিশাতের শেষ কাজটা দেখতে আসুন।’’

নাটকের গল্প প্রসঙ্গে মাসুম রেজা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘নাটকের গল্প তিন বোনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে। দর্শী, দোপাটি, দাওয়া নামে এই তিন বোন রূপার গহনা তৈরি করে। যে উঠোনে বসে তারা গহনা তৈরি করে সেখানে একটি গাছ আছে। এই গাছ অনেক আগে তাদের পূর্বপুরুষ রোপণ করেছিলেন। গাছটি একদল মানুষ চুরি করে কেটে নিয়ে যেতে আসে। এসময় গাছের উপর বজ্রপাত হয়। গাছটি মারা যায় কিন্তু কোনো ছায়া থাকে না। গাছটিতে বেশ কিছু আখ্যান লেখা থাকে, যা কেউ পড়তে পারে না। অন্যদিকে আরেক ব্যক্তির উপর বজ্রপাত হয়। সেও ছায়াহীন হয়ে যায়। তারও শরীরের কোনো ছায়া থাকে না। কিন্তু তার ছায়া ঘুরতে ঘুরতে এই বাড়িতে আসে। লোকটিও নিজের ছায়া খুঁজতে এসে বৃক্ষটিতে লেখা আখ্যান পাঠ করে। এই আখ্যানে তিন বোনের গল্প লেখা থাকে। লোকটি আখ্যানে যা পাঠ করে তাই সমগ্র নাটকে ঘটতে থাকে। মহাভারতে ব্যাসদেব যা লিখেছেন তা ঘটতে থাকে। যা ঘটে তা দেখে তিনি লিখেছেন বিষয়টি কিন্তু তা নয়। এটা এক ধরনের লেখার কৌশল। এই নাটকে এরকম একটি লেখার কৌশলে রয়েছে। তবে আমার নাটকের গল্প পুরোপুরি মৌলিক।’

এ নাটকে মোট ১৭টি চরিত্র রয়েছে। এসব চরিত্র রূপায়ন করবেন—নাজনীন চুমকি, বন্যা মির্জা, সুষমা সরকার, ফিরোজ আলম, কামাল আহমেদ, তিথিসহ অনেকে। নাটকটির কারিগরি দিকও অনেক বড়। মঞ্চ পরিকল্পনা, আলোক পরিকল্পনা, কস্টিউম ডিজাইন সব দলের ছেলেমেয়েরা করেছেন। কস্টিউম ডিজাইন করছেন বন্যা মির্জা, আলোক পরিকল্পনা করছেন টিটু, সেট ডিজাইন করছেন মুকুল, প্রপস ডিজাইন করছেন আরিফ হক। পোস্টার ডিজাইন করছেন আফজাল হোসেন।


ঢাকা/শান্ত