ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

আমরা এখনো মানসিকভাবে খুবই অপরিচ্ছন্ন: শাওন

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৭ ৯:৫১:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৭ ১২:০৭:৫৫ পিএম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। অভিনেত্রী, নির্মাতা হিসেবেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। করোনার এই সংকটকালে দীর্ঘ দিন দুই শিশুপুত্র নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে ঘরবন্দী তিনি। এ অবস্থায় কেমন কাটলো এবারের ঈদ?

প্রশ্ন করতেই বললেন, ‘ঈদ ঢাকায় কেটেছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার বাইরে গিয়ে ঈদ উদযাপনের প্রশ্নই আসে না।’

‘ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঈদ সবচেয়ে বড় উৎসব হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎসব করা যায় না। এই সময়টা বাঁচার, লড়াইয়ের। এখন বেঁচে থাকাটা বেশি জরুরি। বেঁচে আছি এটাই আমার কাছে উৎসব।’ বলেন তিনি।

এমন নিরানন্দের ঈদ বাঙালির জীবনে নতুন নয়, স্মরণ করিয়ে দিতেই শাওন বলেন, ‘একাত্তরের ঈদের সঙ্গে যদি তুলনা করি, তবে তখনো বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ছিলাম, এখনো তাই। আমার কাছে ঈদ খুব সাধারণভাবে আসে। ঈদে সাধারণত আমি শপিং করি না। বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের লোকজন, বাবা-মাসহ অনেকেই ভালোবেসে, স্নেহ করে, সম্মান করে ঈদে এতো উপহার দেন যে, ঈদের সময় আমার আর নতুন করে কিছু কিনতে হয় না। আর এবার তো কেনাকাটার বিষয়টি মাথাতেই আসেনি। তবে হ্যাঁ, আমার দুটো বাচ্চা আছে। তারা সারা বছর ঈদের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এজন্য নরমালি যে খাবার খেয়ে থাকি তার সঙ্গে ঈদের দিন একটু উন্নত খাবার রান্না করব- এই। আনন্দঘন একটা পরিবেশ তৈরির চেষ্টা বলতে পারেন।’

আমরা দুর্যোগময় একটা সময় পাড়ি দিচ্ছি। সমাজের অসচ্ছলদের সহযোগিতা করা এখন প্রয়োজন। আপনি কী ভাবছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে শাওন বলেন, ‘শখ, ইচ্ছা ও চেষ্টা। এই তিনটার সঙ্গে সামর্থ্যের যোগ থাকে। যার কোটি কোটি টাকা আছে তার ইচ্ছা হয় আরো বেশি টাকার মালিক হলে সে আরো বেশি দান করত। যার অল্প আছে সে চিন্তা করে ইস! আমার যদি লাখ টাকা থাকত তবে আমি সেটাই দিয়ে দিতাম। মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা, সেটা কিন্তু একজন মানুষ পূরণ করতে পারেন না। কারণ তাকেও সামর্থ্যের সঙ্গে তুলনা করতে হয়। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পেরেছি করেছি এবং সামনে আরো করব।’

শাওন আরো বলেন, ‘আমি সুস্থ একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি। শুধু হাত ধোয়া ও হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলার সুস্থতার কথা বলছি না। এগুলোর পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার কথা বলছি। আমরা কিছুটা সচেতন হয়েছি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছি। শারীরিকভাবে অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে পরিচ্ছন্ন হয়েছি। কিন্তু আমরা এখনো মানসিকভাবে খুবই অপরিচ্ছন্ন। জয়া আহসান, সাকিব আল হাসান বা যেকোনো তারকার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখুন কুৎসিত মন্তব্যকারীরা এখনো রয়ে গেছে। তাদের হৃদয়, মগজ এখনো পরিষ্কার হয়নি। কোনো তারকার বিবাহবিচ্ছেদ, কারো ছবিতে সাজ বেশি কিংবা মাথায় কাপড় দেয়নি—তাহলেই দেখবেন বলতে শুরু করেছে- রমজান মাস মাথায় কাপড় নেই ইত্যাদি। এই কুৎসিত বাণীগুলো যারা ছড়াচ্ছেন তাদের সুস্থতা চাই।’  

 

ঢাকা/তারা