Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২১ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ৭ ১৪২৮ ||  ০৯ জিলক্বদ ১৪৪২

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আমাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছিলেন: চম্পা

রাহাত সাইফুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১১ জুন ২০২১   আপডেট: ১৯:৪৩, ১১ জুন ২০২১
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আমাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছিলেন: চম্পা

ঘুমের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ভোরে চিরঘুমে তলিয়ে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। এ খবর শোনার পর প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট পেয়েছেন এক সময়ের আলোচিত নায়িকা অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা। তিনি বুদ্ধদেব পরিচালিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘লাল দরজা’য় অভিনয় করেছেন। 

তখন থেকেই আলোচিত এই নির্মাতার সঙ্গে চম্পার পারিবারিক হৃদত্যাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে তার মৃত্যুতে এই নায়িকা আপনজন হারানোর কষ্ট অনুভব করছেন। 

চম্পা বলেন, ‘বুদ্ধদার সঙ্গে ‘লাল দরজা’য় কাজের অভিজ্ঞতা আমার অভিনয় জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। তার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়েছে।’

সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শুটিংয়ের সময়  তাকে দেখতাম গম্ভীর প্রকৃতির একজন মানুষ। সবসময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকতেন। শিল্পীদেরও পরামর্শ দিতেন কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে। তিনি চাইতেন একজন শিল্পী তার চরিত্রটি অন্তর থেকে করুক। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি আমাকে অত্যন্ত সহযোগিতা করেছেন। অনেক জটিল অভিনয় সহজভাবে শিখিয়েছেন। বলতে দ্বিধা নেই, সিনেমাটি মুক্তির পর আমি নিজেকে দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম। মনে হয়েছে- এই কঠিন চরিত্র আমি করেছি! চিনতে পারিনি। বুদ্ধদা আমাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছিলেন।’

করোনার মধ্যেও শেষবার যখন দুজনের কথা হয়েছে তখনও বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত অসুস্থ। চম্পা তাকে বলেছিলেন শরীরের যত্ন নিতে। ফোনের ওপাশ থেকে তিনিও শুভকামনা জানিয়ে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি একটু ভালো হলে কলকাতা এসো। অনেক দিন তোমাদের দেখি না।’

আর কখনও প্রিয় দাদার সঙ্গে দেখা হবে না জানিয়ে চম্পা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে দাদার মেয়ের বন্ধুত্ব। যখনই কলকাতা গেছি আমাদের দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বাংলাদেশের গল্প তিনি শুনতে পছন্দ করতেন।’

‘দাদা নেই ভাবতেই পারছি না। তিনি চলে যাওয়ায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি মনে হচ্ছে।’ বলেন নব্বই দশকের সাড়া জাগানো এই নায়িকা।

‘দূরত্ব’, ‘নিম অন্নপূর্ণা’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’, ‘স্বপ্নের দিন’ বুদ্ধদেব নির্মিত প্রশংসিত চলচ্চিত্র। তিনি একাধিক চলচ্চিত্রের জন্য ভারতের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। কাব্যসাহিত্যেও ছিল তার সমৃদ্ধ পদচারণা। 
 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়