Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮ ||  ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

গান গাইতে পারছেন না কাঙালিনী সুফিয়া 

জ্যেষ্ঠ বিনোদন প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ২৭ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৪:৪২, ২৭ অক্টোবর ২০২১
গান গাইতে পারছেন না কাঙালিনী সুফিয়া 

কাঙালিনী সুফিয়া, ছবি: সংগৃহীত

‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’- এমন আরো অনেক জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি। কিশোরী বয়সে হাতে তুলে নিয়েছেন একতারা। সংগীতচর্চা গুরুমুখী বিদ্যা। গুরু গৌর মহন্ত ও দেবেন খ্যাপার কাছ থেকে শিখেছেন গান- সেই কিশোরীকালে। আর এভাবেই কখন যে প্রকৃত নাম ‘টুনি হালদার’ তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বুঝতে পারেননি। যে গানের জন্য এক জীবন পেরিয়ে এসেছেন এখন বুঝি সেই গানও তাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইছে! পরিবারের আশঙ্কা এভাবে চললে আর হয়তো গান গাইতে পারবেন না তিনি!

বলছিলাম প্রায় ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়ার কথা। বর্তমানে এই শিল্পী বিভিন্ন রোগে ভুগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সুস্থ হয়ে পুনরায় মঞ্চে গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু বাদ সেধেছে ভাগ্য। জীবনে খ্যাতি-সম্মান যতটুকু অর্জন করেছেন ঠিক বিপরীত তার অর্থভাগ্য। অর্থকষ্ট তার নিত্যসঙ্গী।

কাঙালিনী সুফিয়া ভালোবেসেছেন গান। শ্রোতার ভালোবাসা পেয়েছেন তার অধীক। কিন্তু অর্থকষ্ট দূর হয়নি। আবদুর রহমান বয়াতির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাউল উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে গান গাওয়ার কথা ছিল কাঙালিনী সুফিয়ার। মেয়ে পুষ্প বেগমকে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে এসেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে মঞ্চেই উঠতে পারেননি এই শিল্পী। পরে তিনি ফিরে যান।

পুষ্প রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মায়ের পেটে (কাঙালিনী সুফিয়া) অপারেশন হয়েছিল। সেখানে ইনফেকশন হয়েছে। সব সময় চিনচিন করে ব্যথা করে। ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় সেদিন তিনি গান গাইতে পারেননি।’

চিকিৎসক কী বলছেন? জানতে চাইলে পুষ্প বলেন, ‘ডাক্তারের কাছে যেতে হলে তো টাকা দরকার। টাকা কোথায় পাবো?’

বর্তমানে মেয়ের বাসায় সাভারে রয়েছেন কাঙালিনী সুফিয়া। সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু তা মোটেই পর্যাপ্ত নয়। করোনার কারণে গত প্রায় দুই বছর স্টেজ শো হয়নি। ফলে গান গাইতে পারেননি। উপার্জনও ছিল বন্ধ। এখন স্টেজ শো-এর ডাক পেলেও তিনি যেতে পারেন না। এমনকি বহুদিনের পরিচিত জনেরাও নেন না খোঁজ।   

‘কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না। মা অসুস্থতার কারণে গাইতে পারে না। এমন কি এখন কথাও ঠিকমতো বলতে পারে না। আমাদের আয়ের কোনো পথ নেই। মা আর গাইতে পারবে কিনা জানি না। চিকিৎসা করাতে পারলে মা সুস্থ হতেন। কিন্তু কীভাবে করবো জানি না।’ আক্ষেপ ঝরে পড়ে পুষ্প বেগমের কণ্ঠে।

আক্ষেপ ভক্ত-শ্রোতাদেরও কম নয়, যে কণ্ঠে এক সময় তিনি গাইতেন, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ সেই কণ্ঠে কি সুর আবার বেজে উঠবে না?  

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়