প্রথম প্রেম: বন্ধু কেড়ে নেয় ববির প্রেমিকাকে
ভারতীয় সিনেমার দাপুটে অভিনেতা ববি দেওল। শৈশব-কৈশোরে লাজুক প্রকৃতির ছিলেন। তবে বড় হয়ে রোমান্টিক হিরো হিসেবে রুপালি জগতে পা রাখেন; পরে মারকাটারি রূপে পর্দায় ধরা দিয়েছেন। ৫৭ বছরের ববি এখনো অভিনয়ে দারুণ সরব। কয়েক দিন আগে অমর উজালাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কুল-কলেজ জীবনের প্রেম নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা।
ছোটবেলায় অত্যন্ত লাজুক ছিলেন ববি দেওল। স্কুলে যেতে তার ভালো লাগত না। এসব তথ্য স্মরণ করে ববি দেওল বলেন, “আমি খুব শান্ত স্বভাবের ছিলাম। কখনো স্কুলে যেতে খুব একটা পছন্দ করতাম না। আমি সেই ধরনের শিশু ছিলাম না, যে দুষ্টুমি বা ঝামেলায় জড়ায় না।”
স্কুলজীবনের প্রথম প্রেমের কথা স্মরণ করে ববি দেওল বলেন, “আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করতাম। কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার সাহস ছিল না। তাই আমার এক বন্ধুকে বললাম, যে সবার সঙ্গে সহজেই কথা বলতে পারত, আমার হয়ে গিয়ে যেন তাকে ‘হ্যালো’ বলে। সে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলল। কিন্তু পরে নিজেই মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা শুরু করে।”
ববি দেওল যখন নবম শ্রেণিতে পড়েন, তখন তার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে সেই ঘটনার পরও বন্ধুত্বে কোনো ভাটা পড়েনি। এ তথ্য স্মরণ করে ববি দেওল বলেন, “সে এখনো আমার খুব ভালো বন্ধু। আমার বেশিরভাগ পুরোনো বন্ধুরাই এখনো আমার সঙ্গে আছে।”
কলেজজীবনের আরেকটি মজার স্মৃতিও শেয়ার করেছেন ববি দেওল। তিনি জানান, এক মেয়েকে পছন্দ করতেন, যার বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মেয়েটি একদিন লাইব্রেরিতে এসে রক্তদাতার খোঁজ করছিল। এসব তথ্য উল্লেখ করে ববি দেওল বলেন, “তার বাবা খুব অসুস্থ ছিলেন, আর সে এসে জিজ্ঞেস করছিল কেউ রক্ত দিতে পারবে কি না। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি দিতে পারব।’ মনে হয়েছিল, এর মাধ্যমে হয়তো ভালো কিছু হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্তই দিতে পারিনি।”
কেন রক্ত দিতে পারেননি তার কারণ ব্যাখ্যা করে ববি দেওল বলেন, “আমি বসে বসে অন্যদের রক্ত দিতে দেখছিলাম। সুইটা এত বড় মনে হচ্ছিল যে, ভয় পেয়ে গেলাম। যখন আমার পালা, তখন তারা পরীক্ষা করে দেখে আমার রক্তচাপ বেশি। তখন তারা বলল, আমি রক্ত দিতে পারব না।” এরপর হাসতে হাসতে ববি দেওল বলেন, “আমি নিজেই নিজেকে বলেছিলাম, ‘অন্তত আমি তো এসেছি। যে ছাপ ফেলতে চেয়েছিলাম, সেটা অন্তত ফেলতে পেরেছি।”
*টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে
ঢাকা/শান্ত