RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৬ ১৪২৭ ||  ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

উদ্যোক্তা হতে কি একাডেমিক শিক্ষাই যথেষ্ট?

শাহরিয়ার নোবেল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ২৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:২৮, ২৪ নভেম্বর ২০২০
উদ্যোক্তা হতে কি একাডেমিক শিক্ষাই যথেষ্ট?

‘করোনা ল্যাবে সৃষ্ট নাকি প্রাকৃতিক’ এই বিতর্কের মতোই সারাবিশ্বের লাখো উদ্যোক্তাদের হাজারো উদ্যোক্তা ক্লাবে একটা বিতর্ক বেশ মুখরোচক। আর সেটি হলো, উদ্যোক্তা হতে আসলে কিসের প্রয়োজন বেশি। ভাল একাডেমিক শিক্ষা নাকি অন্য কিছু? 

অনেকেই বিল গেটস, স্টিভ জবসদের উদাহরণ টেনে বলে থাকেন, এরা কেউ তো বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পার হতে পারেননি। তাই শিক্ষার থেকে বরং আইডিয়াই মূল অস্ত্র।

তবে, ইউরোপের এক জরিপ বলছে সেখানকার ৮৪ ভাগ উদ্যোক্তারই আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি। বিতর্কের বিষয়টা তাই একটু পালটে দেওয়া যাক এভাবে ‘ভবিষ্যতের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একাডেমিক শিক্ষা কতটা জরুরি?’

এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে, চলমান কোভিড-১৯ মহামারীতে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে যেমন বিশ্বব্যপী তৈরি হওয়া চাকুরী সংকট আছে। তেমনি আছে চলমান শিক্ষাপদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতার ফলে কর্মজীবনে ঢুকতে দেরী হওয়ার প্রভাব। সারাবিশ্বে তাই এই প্রশ্ন জোরালোভাবেই দেখা দিয়েছে যে, যদি শিক্ষিত মানুষ হুট করে কর্মহীন হয়ে নিজের কর্ম নিজেই খুঁজতে হয়, তবে শিক্ষা আসলে কর্মের সমাধানে কতটা জরুরি?

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তাদের ক্লাব ‘ইইউ এন্টারপ্রেনরস’ বলছে এই প্রশ্নের উত্তর আছে অ্যাঞ্জেলা ডাকহামের জনপ্রিয় অনলাইন লেসন ‘গ্রিট দ্য পাওয়ার অফ প্যাসন এবং প্রিজারভেন্স’ এ। সেখানে অ্যাঞ্জেলা বলছেন, আগামীর তরুণদের ‘প্যাশন’ আর মনোবল হতে হবে কঙ্করকঠিন। পাথরের মতো শক্ত মনোবল তৈরির কাজটিতে এখনও পিছিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হবেন কি না সেটি ঠিক করে দেয় তার মনোবল।

ব্যর্থতাকে বরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে উদ্যোক্তাদের। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থতাকে কখনো মেনে নেয় না। উদ্যোক্তা হওয়ার রাস্তায় ব্যর্থতা আসা খুব স্বাভাবিক। স্ট্রিবার্স রিপোর্ট এর করা এক জরিপে উঠে এসেছে, শতকরা ৯০ ভাগ উদ্যোগই শুরুতে ব্যর্থ হয়। তাই ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে এসে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের উদ্যোগ সফল করতে কাজ করতে হবে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের সমব্যাথী মনোভাব থাকতে হবে। সেটি তার দলের প্রতি হোক কিংবা তার ক্রেতা বা সেবা গ্রহীতার প্রতিই হোক। বর্তমান পৃথিবীর বাজার প্রতিযোগিতাপূর্ণ। তাই ক্রেতার চাহিদা ও মনোভাব বুঝে সে অনুযায়ী এগুতে হবে।

সমস্যায় পড়ে গেলে মেজাজ হারালে চলবে না। বিক্ষিপ্ত আচরণ না করে বরং সমস্যা সমাধান করতে হবে যত্ন নিয়ে, ঠান্ডা মাথায়। মনে রাখতে হবে সকল পেশাই মূলত এক একটি সমস্যার সমাধান করা।
তবে শিক্ষার প্রয়োজন যে একেবারেই নেই তা নয়। শিক্ষা বৃহদভাবে ভাবতে শেখায়। সমাজ-সংস্কৃতি বুঝতে শেখায়।

তবে উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে তার পণ্য বা সেবার প্রতি মানুষের আবেগ গড়ে তুলতে পারা শিখতে হয়। আর এই বিষয়গুলো শিখতে হয় জীবন থেকে, নানা সমস্যা আর পরিস্থিত মধ্য দিয়ে গিয়ে। সবকিছু শ্রেণিকক্ষ থেকে শেখা সম্ভব না। 

ঢাকা/নোবেল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়