RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৯ ১৪২৭ ||  ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শিক্ষকদের আয়ের পথ সচল রাখতে ‘দীক্ষা’  

ফারহাত মাইশা অর্পা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪০, ২৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৪৭, ২৯ নভেম্বর ২০২০
শিক্ষকদের আয়ের পথ সচল রাখতে ‘দীক্ষা’  

আট মাসেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাসহ অভিভাবকেরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। পাশাপাশি খণ্ডকালীন টিউশন হারিয়ে ও ঠিকমত বেতন-ভাতা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে শিক্ষার বিকল্প নেই। এর মধ্যে যাত্রা শুরু করছে ভার্চুয়াল শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ‘দীক্ষা’।

রিনা খানম একজন অনলাইন ভিত্তিক নারী উদ্যোত্তা ও প্ল্যাটফর্মটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা বিষয়ে গবেষণার কারণে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। 

কখন চিন্তা করলেন ‘দীক্ষা’ নিয়ে কাজ শুরু করবেন, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দীক্ষার ভাবনা আমার মাথায় আসে প্রায় দুই বছর আগে। আমার মেয়েদের স্কুলিং শুরুর পর থেকে পছন্দমতো টিচার খুঁজে বের করা হলো দায়। ভাবলাম সবকিছুই তো আজকাল অনলাইনে হচ্ছে, তাহলে অনলাইনে টিউশন কেন নয়! উন্নত দেশগুলোতেও অনলাইন টিউশন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো ওয়ান টু ওয়ান টিউশন সিস্টেম ছিল না। আমি ও আমার হাজবেন্ড ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছিলাম ও সে হুট করেই বলে ফেললো চলো আমরা নিজেরাই Virtual Classroom বানিয়ে ফেলি। এভাবেই আমার দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘দীক্ষা’ নিয়ে কাজ করা শুরু করে দিলাম।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রথম দেশে অনলাইন ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি করেছি। কোভিড পরিস্থিতিও শিক্ষার্থীদের সেরা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে দীক্ষা কাজ করে যাচ্ছে। এতে ঘরে বসেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রম দুটোই বেঁচে যাচ্ছে। অভিভাবকেরাও নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে। বর্তমানে ৪৫০০ এর অধিক শিক্ষক দীক্ষার সাথে যুক্ত। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এই কঠিন সময়েও শিক্ষকদের আয়ের চাকা সচল রাখার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করার।’ 

রিনা খানম বলেন, ‘শুরুর দিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। দেশে এখন অনেক অনলাইন মিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ব্যয় হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা। তবে দীক্ষার মতো একটি দেশীয় সফটওয়্যার যদি শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বত্র ব্যবহার করা যায়, তাহলে দেশ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও সাবলম্বী হবেন আমাদের দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।’

দীক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রিনা খানম বলেন, ‘আমাদের বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া, শিক্ষকদের জন্য উন্নতমানের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও পরিপূর্ণ একটি ল্যার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা, যা কিনা যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে সাহায্য করবে।’

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা। ‘দীক্ষা’ ভার্চুয়াল ক্লাসরুম হতে পারে একটি অন্যতম মাইলফলক। দীক্ষা সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে www.dikkha.com ওয়েবসাইটে।

ঢাকা/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়