Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪২৮ ||  ২২ রমজান ১৪৪২

নববর্ষে অনলাইনে কেনাকাটার হালচাল

মিফতাউল জান্নাতী সিনথিয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৩, ১৪ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২২:৪২, ১৪ এপ্রিল ২০২১
নববর্ষে অনলাইনে কেনাকাটার হালচাল

পহেলা বৈশাখ, বাংলা বছরের প্রথম ও বাঙালিদের উৎসবের দিন। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ হলেও, বৈশাখের উৎসবে পান্তা ইলিশই প্রাধান্য পায়। বিগত বছরগুলিতে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করেছে বাংলার মানুষ। তবে গতবছর থেকে নেই কোন উৎসব, নেই তরুণীদের খোপায় গোঁজা রজনীগন্ধা ও গোলাপের বাহার, নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তায় নানা রঙে রাঙানো আল্পনা।  তাই বলে কি মুছে যাবে যুগে যুগে পালন করে আসা বৈশাখী উৎসব? না বাংলা বছর নিয়ে বাঙালিদের অন্তরের অনুভূতি ভুলে যাওয়ার নয়। বরং ঘরে বসেও নানা আয়োজনে মুখরিত হয়েছে বৈশাখের উৎসব।

কঠোর লকডাউনে বন্ধ দোকান ও শপিংমল। অপরদিকে তথ্য প্রযুক্তির যুগে ই-কমার্স ব্যবসার প্রসারে, ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই অনলাইনেই কেনাবেচাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাই এবারেও নিজেদের সুরক্ষায় সামনে ঈদ ও বৈশাখ উপলক্ষে মানুষের আস্থা বেড়েছে অনলাইন কেনাকাটায়। আসুন এমন উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের কাছে থেকে জেনে নেওয়া যাক তাদের মতামত।

দেলোয়ার হোসেন (স্বত্বাধিকারী, আওয়ার শেরপুর ডটকম)
গতবছর পহেলা বৈশাখের আগে করোনার থাবায় বাংলাদেশের মানুষ আটকা পরে লকডাউনে। বন্ধ হয়ে যায় সকল আয়োজন ও আনুষ্ঠানিক উদযাপন। ক্রেতারা নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে শপিংমলের পরিবর্তে অনলাইনে কেনাকাটায় নির্ভরশীল হয়। ই-কমার্স উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে ক্রেতাদের সেই চাহিদা পূরণ করে। এবারের পহেলা বৈশাখও একইভাবে কাটছে সবার। উৎসব প্রিয় বাঙালিরা বাইরে বের হতে না পারলেও ঘরোয়াভাবে আয়োজন করছে পহেলা বৈশাখ। গত বছর ও চলতি বছর পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ‘আওয়ার শেরপুর’-এ তুলশীমালা চালের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতারা গতবছর তুলশীমালা চালের বিভিন্ন খাবারের ছবি ও গল্প ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এবছর পহেলা বৈশাখ ও রোজা একইসঙ্গে হওয়ায় সেহেরি ও ইফতারে তুলশীমালা চালের বাহারি পদ রাখবে ক্রেতারা।

আইরিন আক্তার রিতা (স্বত্ত্বাধিকারী, দোলা রোদেলা বুটিক)
মাহে রমজান এবং বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে। গত দুই বছর ধরে ঘরে বসেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করছি পরিবারের সবাইকে নিয়ে।এবার রমজানের সেহেরির খাবার রান্না করতে গিয়ে মাথায় এলো নববর্ষে একটু ভিন্ন ভাবে খাবার পরিবেশনের চিন্তা। দেলোয়ার ভায়ের ‘আওয়ার শেরপুর ডটকম’ পেজ থেকে কেনা তুলশীমালা চালের সাদাভাত, সঙ্গে দেশি মুরগি ও মাখানো ডাল রান্না করেছিলাম। মাটির বাসন কোসন আমার হাতের কাছেই থাকে সবসময় তাতেই পরিবেশন করলাম সেহেরির খাবার। হঠাৎ এমন আয়োজন দেখে পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছিল। ঘরের সবাইকে খুশি করতে পেরে আমারও অনেক ভালো লেগেছে।

অনলাইনে কেনাকাটা করার এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা, যখন যা দরকার ঘরে বসে কিনতে পারছি। তুলশীমালা চালটাও আমি রমজান উপলক্ষে কিনেছিলাম।শুধু কাপড় কেনার ক্ষেত্রে নয় বরং খাবারের জিনিসপত্র কেনার জন্যও অনলাইন এখন সবার কাছে সেরা হয়ে ওঠেছে।ধন্যবাদ সবাইকে। সবাই সুস্থ্য ও নিরাপদে থাকবেন।

আরিফা খাতুন (স্বত্বাধিকারী, আফাফ ক্রিয়েশন)
গতবছর পহেলা বৈশাখের প্রায় একমাস আগে থেকেই দেশে শুরু হয় করোনা মহামারি। তখন থেকেই মানুষ অনলাইনের দিকে ঝুকেছে বেশি।  গতবছরের তুলনায় এবছর অনলাইনে পহেলা বৈশাখের কেনাকাটা বেড়েছে। যদিও এই বছর রোজা ও পহেলা বৈশাখ একই দিনে শুরু হওয়ায় অনেকে ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে কেনাকাটা করছে। অনেক ক্রেতাদের চাহিদা ছিল এমন যে, ঈদ যেহেতু পহেলা বৈশাখের পরে তাই তাদের এমন পোশাক দিতে হবে যেন ঈদেও পরা যায়। 

এই বৈশাখে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ফ্যামিলি কম্বো ড্রেসের। পরিবারের সবাই একই রকম ড্রেস পরবে বৈশাখের দিনে। ক্রেতারা এটাও জানায়, যেহেতু করোনা পরিস্থিতি খারাপ এবং রোজার প্রথম দিন তাই উনারা বাসায় থেকেই বৈশাখ উদযাপন করবেন। আলহামদুলিল্লাহ আমার অনেক ক্রেতা খুব খুশি হয়েছে যে, তারা ঘরে বসেই পহেলা বৈশাখের জন্য পছন্দমত ড্রেস অর্ডার করতে পেরেছে। সম্পূর্ণ তৈরি করা ড্রেস পাওয়ায় তাদের বাইরে যেতে হয়নি। তাই কাস্টমাররা তাদের অনুভূতি আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন।

আইরিন আক্তার এনি (স্বত্বাধিকারী, আইরিন কুকিং স্টুডিও অ্যান্ড বেক)
করোনার কারণে গত বছর থেকে মানুষ প্রায় ঘর বন্ধি জীবনযাপন করছে। পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসব ঘরেই উদযাপন করছে অনেকেই। আর এই সময় অনলাইনে ক্রেতাদের কেনাকাটার চাহিদা বেড়েছে। কারণ এটি নিরাপদ ও ঘরোয়া খাবার হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত। 

গতবছরের মতো এই বছরও ‘আইরিন কুকিং স্টুডিও অ্যান্ড বেক’-র পক্ষ থেকে বৈশাখী আমেজকে একটু রাঙিয়ে তুলতে নতুন একটি কেক বক্সের আয়োজন করি।  রঙিন কেক বক্সে একটু ভিন্নতা হওয়ার কারণে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে এটি। যার ফলে অনলাইনে বিক্রির পরিমানও বৃদ্ধি পায়। করোনাকালীনে  অনলাইন কেনাকাটার আরও একটি সুবিধা হলো, প্রিয়জনদের দূরে থেকেও তাদের সারপ্রাইজ গিফট পাঠানো একদম সহজ ও নিরাপদ। আমি এমনও অনেক অর্ডার পেয়েছি যারা ঢাকার বাইরে বা দেশের বাইরে থেকে প্রিয়জনদের উপহার দিতে অনলাইনে কেক অর্ডার করেছেন।

আশরাফুল জান্নাত (স্বত্বাধিকারি, সখের আচার)
শুভ নববর্ষ, নববর্ষের প্রথম দিন আমরা বাঙালিরা পালন করে থাকি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে। নতুন পোশাক, খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা, সাহিত‍্য চর্চার মাধ‍্যমে এই দিনটি আমরা পালন করি।কিন্তু করোনার কঠিন থাবায় দেশব‍্যাপী চলছে লকডাউন।তাই ঘরে বসে কেনাকাটা করাটাই আমি উত্তম মনে করি। আমার ছেলেমেয়েরা কেক অনেক বেশি পছন্দ করে।আর আমি আইরিন আপুর একজন নিয়মিত ক্রেতা।আপুর কেক আমার বাচ্চারা ভীষণ পছন্দ করে।আর নববর্ষ উপলক্ষে আপুর মিক্স ফ্লেভার কেক যেন নববর্ষের এক দারুন কম্বিনেশন।এ যেন এক রঙের মেলবন্ধন এবং এর সঙ্গে আবার ৮টি ভিন্ন ভিন্ন ফ্লেভারের কেক। আপুর এই কেকের মাধ‍্যমে বাচ্চারা অনেকটাই আনন্দ পেয়েছে।কেক দেখেই যেন নববর্ষ ভাবটা চলে এসেছে।আপুর জন্য অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইলো। ধন্যবাদ রাজিব স্যার ও নিশা আপুকে উইর (উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম) মতো এত সুন্দর একটা প্লাটফর্মের জন্য, যেখানে আমি ক্রেতা-উদ্যোক্তা উভয়ের ভূমিকায় আছি।

ঢাকা/সিনথিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়