ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

দুই দিনের রাজত্ব

নিয়ন রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৬ ১১:৪৫:২১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২৬ ৩:০০:২৪ পিএম
ইতালির দ্বিতীয় কিং উম্বের্তো

ধরুন আপনাকে কোনো দেশ বা সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী করে দেয়া হলো- কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই খুশি হবেন এবং বাকি জীবন এই ক্ষমতা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাইবেন। তবে এই প্রতিবেদনে এমন কিছু শাসকদের কথা আপনি জানবেন যারা খুব স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় ছিলেন। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব।

ফ্রান্সের প্রথম কিং জন: প্রথম কিং জন ছিলেন দশম কিং লুইসের পুত্র। দশম কিং লুইস ১৩১৬ সালের জুন মাসে মারা যান। তখনো প্রথম কিং জনের জন্ম হয়নি। অর্থাৎ জন্মের আগেই সিংহাসনের অধিকারী হন তিনি। যদিও ওই বছর ১৫ নভেম্বর তিনি ভূমিষ্ঠ হন। রাজতন্ত্রের নিয়ম মেনে এই শিশুকেই ফ্রান্সের মসনদে বসানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র পাঁচদিন বয়সেই অজানা কারণে মারা যান প্রথম কিং জন। মৃত্যুর কারণ আজ অবধি ইতিহাসবিদদের কাছে অস্পষ্ট। তবে অনেকেই চাচা পঞ্চম ফিলিপকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ফোর্ড: ফ্রাঙ্ক ফোর্ড অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি লেবার পার্টির ফেডারেল প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী, সেনামন্ত্রী, যুদ্ধ পরিষদের উপদেষ্টা সদস্য এবং শুল্ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল দুর্দান্ত। সর্বস্তরের জনগণ এবং নেতৃস্থানীয় লোকেদের কাছেও তিনি তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। এ কারণেই ১৯৪৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন কার্টিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে, ফ্রাঙ্ক ফোর্ড অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার নিজের দল লেবার পার্টিই তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারছিল না। বেন চিফলেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে তারা। ফ্রাঙ্ক ফোর্ড ৬ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই অর্থাৎ সাতদিন অস্ট্রেলিয়ার ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইংল্যান্ডের কুইন লেডি জেন গ্রে: ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী স্বভাবের অধিকারিণী কুইন লেডি জেন গ্রে ছিলেন অষ্টম কিং হেনরির ভাতিজি। ইংল্যান্ডের সিংহাসনের দৌড়ে তার অবস্থান ছিল পঞ্চম। ১৫৩৭ সালে কিং হেনরি মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকারসূত্রে তার পুত্র ষষ্ঠ এডওয়ার্ড ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন। তবে কিং এডওয়ার্ড ক্ষয়রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ৬ জুলাই ১৫৫৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা ছিল, তার চাচাতো বোন লেডি জেন গ্রে হবেন ইংল্যান্ডের নতুন শাসক। কিন্তু লেডি জেন গ্রে’র রাজ্যাভিষেকের পর তার সৎবোন মেরি টিউডর বিদ্রোহ করেন। কারণ উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ষষ্ঠ কিং এডওয়ার্ডের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসার কথা ছিল মেরির। রাজমহলে মেরির পক্ষে ক্রমেই সমর্থন বাড়তে থাকে। ফলে সিংহাসনে বসার মাত্র নয়দিনের মাথায় লেডি জেন গ্রে’কে সিংহাসন ছেড়ে দিতে হয়। ১৫৫৩ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই তিনি ইংল্যান্ডের রানী হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন। 

ইতালির দ্বিতীয় কিং উম্বের্তো: উম্বের্তো ছিলেন ইতালির তৎকালীন শাসক তৃতীয় কিং ভিটোরি ইমানুয়েলের পুত্র। ইউরোপের অন্যান্য রাজতন্ত্রগুলোর মতো ইতালির রাজপরিবারও শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে এমন একজন শাসকের সন্ধানে ছিল। আর তখন রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়েই সরব আন্দোলন চলছিল। ইতালিতেও সেই হাওয়া লেগেছিল। ফলশ্রুতিতে ১৯৪৬ সালে ইতালিতে রাজতন্ত্রের পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। রাজতন্ত্র বিরোধীদের দমনের প্রত্যাশায় তৃতীয় কিং ভিটোরি তার পুত্রের হাতে রাজ্যের দায়ভার তুলে দিয়ে সিংহাসন ত্যাগ করেন। কিন্তু এই ঘটনা ইতালির জনগণের মনে রাজতন্ত্রের পক্ষে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপুল ভোট দেয় সাধারণ জনগণ। এই গণভোটের পরপরই ইতালিতে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রজাতন্ত্রী শাসনব্যবস্থার শুরু হয়। দ্বিতীয় কিং উম্বের্তো ছিলেন ইতালির মাত্র কয়েকদিনের এবং সর্বশেষ রাজা। সিংহাসনচ্যুত হওয়ার পর তাকে পর্তুগালে নির্বাসিত করা হয়। জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি নির্বাসিত অবস্থাতে পর্তুগালে থেকেই মারা যান।

পড়ুন : দুই দিনের রাজা


ঢাকা/ফিরোজ/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন