RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

এক ম‌্যাচে গেল ১৬ জনের প্রাণ

শাহিদুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৩, ৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
এক ম‌্যাচে গেল ১৬ জনের প্রাণ

ফুটবল- পৃথিবীর অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর খেলা। মুহূর্তে মুহূর্তে যে খেলা রং বদলায় সেখানে উত্তেজনা থাকবে স্বাভাবিক। ফুটবল মাঠে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মতো ধাক্কাধাক্কি খুব সাধারণ ঘটনা! কখনও কখনও মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। শুরু হয় তুলকালাম কাণ্ড। ফলে জন্ম নেয় মৃত্যুর মতো অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তাই বলে এক ম‌্যাচের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ১৬ জনের মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হয় বৈকি।

ঘটনাটি ঘটেছে মেক্সিকোর জাকাটিকাস প্রদেশের সাইনগুইলাস কারাগারে। এটি দেশটির কুখ্যাত কারাগার বলে পরিচিত। এখানে হাজারের উপরে ভয়ঙ্কর দাগী আসামী রয়েছে। তারা ভয়ঙ্কর সব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। কারাগারটি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, বন্দীদের কাছে অহরহ আগ্নেয়াস্ত্র, চাকু পাওয়া যায়।

নতুন বছর উপলক্ষে কারা কর্তৃপক্ষ ১ জানুয়ারি বন্দীদের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানেরই অংশ ছিল ফুটবল খেলা। সারাদিন পরিবার পরিজনের সঙ্গে মিলিত হবার পর বিকেলে বন্দীরা কারাগারের মাঠে ফুটবল খেলায় মেতে ওঠে। দুই পক্ষের একটি ছিল লস জিটাস এবং প্রতিপক্ষ গালফ কার্টেল। কারাগারে এই দুটি পক্ষের মধ‌্যে প্রায়ই মারপিট লাগত। ফলে ফুটবল মাঠেও যে এর ব্যতিক্রম হবে না এমন অনুমিতই ছিল। কারা কর্তৃপক্ষও নিয়েছিল বাড়তি সতর্কতা। সবাইকে তল্লাশির পর মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

টানটান উত্তেজনার মধ্যে খেলা শুরু হয়। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা বেশ জমে ওঠে। কিন্তু বিপত্তি বাধে গালফ কার্টেলের পেনাল্টি বক্সের কাছে লস জিটাসের খেলোয়াড় কর্তৃক মারাত্মক ফাউলের পর। উভয় পক্ষের খেলোয়াড়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ‌্যালারিতে। হঠাৎ শুরু হয় গোলাগুলি। কেউ কারো চেয়ে কম নয়। বন্দুক, ছুরি, হাতুড়ি পেটা মিলিয়ে পুরো মাঠ পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

ফলাফল ১৬ জন বন্দীর মৃত্যু এবং আহত প্রায় একশ। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়ে পুলিশ। একসময় তারাও মারমুখী হয়ে ওঠে। কারারক্ষীদের প্রাণপণ প্রচেষ্টায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সময়ের আবর্তে এখন কারাগারেও নানা রকম বদল এসেছে। কারাগারগুলোকে এখন বলা হয় সংশোধনাগার। সেখানে এখন নানারকম সৃজনশীল কাজ ও খেলাধুলার আয়োজন করে বন্দীদের মুক্ত জীবনের স্বাদ দেয়া হয়। সাইনগুইলাস কারা কর্তৃপক্ষও চেয়েছিল তেমন কিছু করতে। এ কারণেই তারা প্রীতি ফুটবল ম‌্যাচের আয়োজন করেছিল। কিন্তু তখন কে জানত ঘটবে এমন বিষাদময় ঘটনা।

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়