ঢাকা, রবিবার, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দাউ দাউ আগুন থেকে সন্তানকে বাঁচিয়ে মায়ের জেল

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১২ ১:৩৯:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১২ ৬:১০:৫৪ পিএম

বলা হয়ে থাকে, উত্তর কোরিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে নিভৃতচারী রাষ্ট্র। বিচিত্র সব আইন রয়েছে দেশটিতে।  শুনলে হতবাক হতে হয়! যেমন, উত্তর কোরিয়ার কোনো নাগরিক নিজের ইচ্ছায় চুল সাজাতে পারেন না। সরকার থেকে বেধে দেয়া নিয়মেই নাগরিকদের চুলের ফ্যাশন করতে হয়। এরকম হাজারো আইনে সাজানো দেশটির শাসন ব্যবস্থা। তবে আপনার-আমার কাছে আইনগুলো অবাক করা মনে হলেও, দেশটির জনগণের কাছে আইনগুলো অবশ্য পালনীয়।

কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আবারও উত্তর কোরিয়ার শাসন ব্যবস্থাকে বর্হিবিশ্বে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনার বিবরণ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যামগিয়ং প্রদেশে। সেখানে এক গ্রামে দুইটি পরিবার মিলেমিশে একটি বাড়িতে বাস করত। হঠাৎ আগুন লাগে বাড়িটিতে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে বাড়ির  বাসিন্দারা।

বাড়িতে ওই মুহূর্তে কোন পুরুষ না-থাকায় এক নারী তড়িঘড়ি করে শিশুদের আগুন থেকে রক্ষা করে। এছাড়া তিনি বাড়ির কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও রক্ষা করতে সক্ষম হন। জীবন বাজি রেখে সন্তানদের রক্ষা করার জন্য সকলের বাহবা পেলেও এই নারীকে এখন জেলে যেতে হচ্ছে। কারণ উত্তর কোরিয়ার হাস‌্যকর আইন।  

মা আগুন থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে পারলেও রক্ষা করতে পারেনি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জন উং ও তার পরিবারবর্গের ছবি। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ছবিগুলো। এই লঘু কারণেই গুরু দণ্ড পেতে হচ্ছে তাকে। কারণ উত্তর কোরিয়ার আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে, প্রত্যেক নাগরিকের ঘরে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের ছবি রাখতে হবে। শুধু টানিয়ে রাখলেই হবে না। দুই বেলা নিয়ম করে ছবিগুলো পরিষ্কার করতে হবে। ছবিগুলোর এমনভাবে যত্ন নিতে হবে যেন দেখলে মনে হয় পরিবারের কোন সদস্যের যত্ন নেয়া হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে ওই মা যদি সন্তানদের না বাঁচিয়ে ছবিগুলো আগুন থেকে রক্ষা করতে পরত তাহলে তাকে জেলে তো যেতে হতোই না, উল্টো সরকার থেকে পুরস্কার পেত। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই নারীকে শাস্তির পাশাপাশি তার পরিবার বর্গকেও শাস্তি পেতে হচ্ছে। জানানো হয়েছে, আগুনে আংশিক পুড়ে যাওয়া সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তি করতে দেয়া হবে না। দেয়া হবে না কোন ধরনের প্রতিষেধক।


ঢাকা/তারা