RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৭ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শরীরের প্রতি ইঞ্চিতে ট্যাটু!

অন্য দুনিয়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:২৩, ১৫ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
শরীরের প্রতি ইঞ্চিতে ট্যাটু!

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ২৪ বছর বয়সি তরুণী অ্যাম্বার ব্রিয়ানা লুক। তার শরীরে কতগুলো ট্যাটু আছে তিনি নিজেও জানেন না। শরীরে ট্যাটুর সংখ্যা ১৫০ পেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি ট্যাটু গুনে দেখা বাদ দিয়েছেন। তবে তার ধারণা, তার শরীরে আরো অন্তত ১০০টি ট্যাটু রয়েছে।

অ্যাম্বার শরীরের প্রতি ইঞ্চিতে ট্যাটু করিয়েছেন। এমনকি চোখ পর্যন্ত বাদ রাখেননি। ট্যাটুর এই নেশার পেছনে ব্যয় করেছেন প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, বাংলাদেশি টাকার হিসাবে ২১ লাখ টাকার বেশি।

‘ট্যাটু করলে কেমন লাগে’ জানতে ১৬ বছর বয়সে প্রথম ট্যাটু করান অ্যাম্বার এবং সেসময়ই ট্যাটুর নেশা তাকে পেয়ে বসে। প্রথম ট্যাটু ছিল খুব কমন একটি নকশা। কিন্তু এখন ফুল, কঙ্কাল, প্রাণী, ব্লকসহ বিভিন্ন চমকপ্রদ নকশা রয়েছে তার শরীরেজুড়ে।

অ্যাম্বার বলেন, ‘প্রথম ট্যাটুটা করেছিলাম কারণ এর অনুভূতিটা কেমন তা আমি জানতে চেয়েছিলাম। আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না। আমার আসক্তি তৈরি হয় ২০ বছর বয়স থেকে।’

তার মতে, ট্যাটু আঁকানো থেকে তিনি যে অনুভূতি পেয়েছিলেন, তা অন্য আর কোনো কিছু থেকে পাননি। ট্যাটু করার সময় পরিষ্কারভাবে অনুভব করতে পেরেছেন যে, শরীর থেকে প্রতি মিনিটে নেতিবাচক শক্তি ঝরে পড়ছে।

অ্যাম্বার তার জিহ্বাও ‍দুই ভাগ করিয়েছেন। পিক্সি লুকের জন্য সিলিকন ইমপ্ল্যান্ট করেছেন চোখে। সম্ভবত তার সবচেয়ে দুঃসাহসী ট্যাটু হচ্ছে চোখে। ট্যাটুর মাধ্যমে চোখ গাঢ় নীল রঙে পরিণত করেছেন। আর এটি তার সবচেয়ে প্রিয় ট্যাটুও।

অ্যাম্বার বলেন, ‘চোখে ট্যাটু করার সময় তিনি সবচেয়ে বেশি ব্যথা সহ্য করেছেন। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন আয়নায় চোখ দুটো দেখি তখন সেই দুঃসহ কষ্টের কথা ভুলে যাই। নীল আমার অসম্ভব প্রিয় রঙ।’

ট্যাটুর প্রতি এই আসক্তির কারণে মানসিকভাবে কয়েক বছর কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। বাবা-মার একমাত্র সন্তান অ্যাম্বার। বাবাকে কখনো দেখেননি, মা সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে শৈশবে তার যা প্রয়োজন সবই দিয়েছিলেন। কিন্তু খুব নিঃসঙ্গ ছিলেন অ্যাম্বার। ১৫ বছর বয়সে হতাশা এবং উদ্বেগ জীবনে ভর করে তার। এরপর সিজোফ্রেনিক সমস্যাসহ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হন। অন্তত ১৫ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু ২০ বছর বয়সে তার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। নিজের জীবনকে ভালোবাসার সিদ্ধান্ত নেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত নিজের ছবি পোস্ট করেন শরীরজুড়ে ট্যাটুতে ঢাকা অ্যাম্বার।

তথ্যসূত্র : মিরর


ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়