RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭ ||  ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

লকডাউনে খাবার না পেয়ে সাপ

অন্য দুনিয়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৬, ২০ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
লকডাউনে খাবার না পেয়ে সাপ

ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নয়, পৃথিবীর অনেক মানুষ মারা যাবে ক্ষুধার জ্বালায়। ইতোমধ্যেই কথাটির সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন আগে এমন একটি উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতীয় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, খাদ্যের জোগান দিতে না পারলে লকডাউন সফল হবে না। এই বক্তব্যের এক সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই তারই দেশে ঘটল এই ঘটনা।

লকডাউনে ঘরে খাবার নেই। এ অবস্থায় ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে আপনি কী করতেন? এর উত্তর একেক জনের কাছে একেক রকম হতে পারে। কিন্তু ভারতের অরুণাচল প্রদেশের তিন যুবক করেছেন অবিশ্বাস্য একটি কাজ। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো ভারতেও চলছে লকডাউন। এই অবস্থায় বেকার হয়ে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে কাজ করা খেটে খাওয়া মানুষ।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তি কাঁধে ১২ ফুট লম্বা একটি কিং কোবরা সাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের একজন বলছেন, ‘লকডাউনের কারণে ঘরে চাল নেই। ক্ষুধার্ত ছিলাম, মাংস খেতে মন চাইলো তাই জঙ্গলে চলে গেলাম। সরকারি কর্মকর্তারা অপরাধ নেবেন না। আমরা সচরাচর এমন করি না।’

জানা গেছে, ভারতের অরুণাচল প্রদেশের নাহারলাগুন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এই অঞ্চলের মানুষ খাবারের জন্য বন্যপ্রাণি হত্যা করছে বলে ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছে প্রশাসন।

এদিকে ভারতে বন্যপ্রাণি হত্যা গুরুতর অপরাধ! ইতোমধ্যে সাপ হত্যার দায়ে তিন যুবকের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করে ইটানগর ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা জানান, যারা সাপ হত্যা করে মাংস খেয়েছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে অরুণাচল ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেনের ডেপুটি চিফ বলেন, ‘বন বিভাগের একটি দল আমরা সেখানে পাঠিয়েছি। তারা তদন্ত করে দেখেছে যে, সেখানে সাপ হত্যা ও মাংস খাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রধান আসামি কুরুং কুমে জেলার বাসিন্দা। সে পলাতক রয়েছে।’

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। একদল বলছেন, ক্ষুধার কারণে তারা এমন কাজ করেছে। এটি গুরুতর অপরাধ নয়। কিন্তু অন্যদল বলছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের অন্যায়ে উৎসাহিত হবে। অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু দ্বিতীয় দলে। তিনি ইতোমধ্যেই বন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, লকডাউনের সময় যেন কোনো বন্যপ্রাণি হত্যা ও গাছ কাটার মতো অপরাধ না ঘটে।


ঢাকা/মারুফ/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়