Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮ ||  ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

শুঁটকি উৎপাদনের ধুম লেগেছে চট্টগ্রামে

রেজাউল করিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১১, ৩ নভেম্বর ২০১৪   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
শুঁটকি উৎপাদনের ধুম লেগেছে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামে রোদে শুকানো হচ্ছে লইট্যা শুঁটকি

রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম : শীতের আগমনের শুরু হতে না হতেই চট্টগ্রামের সাগর উপকূল দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় শুঁটকি উৎপাদনের ধুম লেগেছে। সাগর উপকূলে জেলেরা বিভিন্ন প্রজাপতির মাছ আহরনের পর সেগুলো প্রাকৃতিক পন্থায় শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করতে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও শুটকি মাছের জন্য বিখ্যাত চট্টগ্রাম। দেশীয় খাবারের মধ্যে শুটকি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। সারাদেশের বাঙালি বলতেই শুটকি খেতে পছন্দ করেন। বাংলাদেশের শুটকি বাজার মুলত সাগরতীরবর্তী চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার নির্ভর।

চট্টগ্রামের দক্ষিনাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলায় শুটকি উৎপাদন এবং কেনাবেচার সঙ্গে গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবিকা। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলাকে কেন্দ্র করে শুটকির বৃহৎ বাজার রয়েছে সারা দেশে। এই বৃহৎ বাজারে চাহিদা অনুযায়ী শুটকি বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যায়।

প্রধানত চট্টগ্রামে হলেও খুলনা, রাঙ্গামাটি প্রভৃতি স্থানেও শুটকি উৎপাদিত হয়। তবে বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজার, মহেশখালী, মাইশদিয়া, কুতুবদিয়া, কর্ণফুলী, চরচাক্তাই, রাঙাবালি অঞ্চলে শুটকি উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের চাক্তাই বাজার হচ্ছে শুটকির প্রধান আড়ৎ। চাক্তাইয়ে একটি শুটকি পট্টিও আছে।

চট্টগ্রামের চর চাক্তাই এলাকার শুটকি উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী আবদুল সালাম রাইজিংবিডিকে জানান, মুলত অক্টোবর মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়। তবে নভেম্বরে শীতের আগমনের শুরু থেকে পুরোদমে শুটকি উৎপাদনে নেমে যায় জেলেরা।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে যে সব শুটকি উৎপাদন হয়, তার মধ্যে রয়েছে ছুরি শুটকি, ইচা শুটকি, লাল ইচা, মইল্যা, চেলা, লইট্ট্যা, লাক্কা, রূপচাঁদা, পোপা, মিশালী, ফাইশ্যা, কেচকি, মাইট্যা, চোফি, মনুনিয়া, লবন ইলিশ, ধইঞ্চাসহ আরো অনেক প্রকারের শুটকি।

তবে শুটকির মধ্যে সবচাইতে দামি হচ্ছে লাক্কা ও রূপচাঁদা। এই দুই প্রকার শুটকি সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে বলা চলে। বর্তমানে এক কেজি রূপচাঁদা শুটকি ২০০০-৩০০০ টাকা ও  লাক্কা ৪০০০-৫০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছুরি শুটকি ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হয় চট্টগ্রামের বাজারে।

অত্যন্ত মজাদার এবং উৎপাদন খরচের কারণে এগুলোর দাম বেশি বলে ব্যবসায়ীরা জানান। শুটকির মধ্যে কম দামের শুটকি হচ্ছে মিশালী শুটকি। তবে লইট্যা শুটকি চাহিদা বেশি এবং দামও সাধারনের নাগালের মধ্যে। প্রতি কেজি লইট্যা শুটি সাড়ে ৩শ’ টাকা থেকে ৬শ’ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।

 

ভোজন রসিক ক্রেতারা জানান. চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহি খাবার শুটকি। সাধারণত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকিয়ে শুটকি বানানো হয়। খাদ্য হিসেবে শুটকি খুবই প্রিয়। প্রতিদিন গ্রামে-গঞ্জের কিংবা আধুনিক শহরের হাটে বাজারে গেলে শুটকি না কিনলেই নয়। শুটকি না খেলে যেন রসনা পূর্ণ হয়না।

শুটকি দিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকম মজাদার খাবার। চট্টগ্রমের বাইরে যারা থাকেন তারা চট্টগ্রামে এসে প্রথমে সংগ্রহ করেন শুটকি। সামুদ্রিক মাছের সংকটের কারণে শুটকির দাম বাজারে চড়া হলেও শুটকি খাওয়ার প্রবণতা কিন্তু হ্রাস পায়নি। তবে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শুটকি ক্রমশ খাদ্যবিলাসে পরিণত হচ্ছে। দাম বেড়ে গেলেও সামর্থ্য অনুসারে খাদ্য তালিকায় শুটকি স্থান পায়।

চট্টগ্রাম মহানগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, বহদ্দার হাট কাঁচাবাজার, কর্ণফুলী মার্কেট, কাজীর দেউড়ি মার্কেট, চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন ফুটপাতে শুটকি মার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে বিভিন্ন জাতের শুটকি পাওয়া যায়। প্রায় সব ধরনের শুটকি মিলে চট্টগ্রামের বাজারে।
 

ঢাকার রসনা বিলাসী গৃহীনি সম্পূর্ণা ইসলাম রাইজিংবিডিকে জানান, চট্টগ্রামের শুটকি মাছ ঢাকায় আমাদের খুবই প্রিয় খাবারের অনুষঙ্গ। রূপচাঁদা, লাক্কা  ছাড়াও ছুরি, লইট্টা শুটকি অনেক মজাদার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গেলেই মজাদার নানা পদের শুটকি কেনাকাটার তালিকায় শীর্ষৈ রাখেন বলে এই গৃহীনি জানান।

অপরদিকে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম শুটকরি জন্য বিখ্যাত হলেও নানা কারনে চট্টগ্রামের এই শুটকি ঐতিহ্য হারাচ্ছে। শুটকিতে ডিডিটি পাউডার মিশানোসহ নানা কৃত্রিম রাসায়নিক মেশানোর ফলে এই শুটকি নিয়ে ক্রেতারা অনেক সন্দিহান।

বিভিন্ন প্রকার পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে শুটকিতে ডিডিটি পাউডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। আগে প্রাকৃতিক পরিবেশ বালুর উপর রোদে শুটকি শুকানো হলেও এখন শুটকি শুকানো হয় কৃত্রিমভাবে। এতে শুটকির আগের স্বাদ আর পাওয়া যায় না।

ক্রেতারা অভিযোগ করেন গ্যাসের আগুনে শুকানো শুটকিতে বাজার সয়লাব। একই সঙ্গে এসব শুটকি ওষুধ মিশ্রিত। এই কারনে অনেক ক্রেতা স্বস্থিতে শুটকি কিনতে ভয় পান।




 

রাইজিংবিডি/৪ নভেম্বর ২০১৪/রেজাউল/নওশের

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়