ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৬ ১৪২৯ ||  ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩

শিশুর মতো দেখতে ৩ ফুট উচ্চতার অবলির বয়স কতো? 

অন্য দুনিয়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ১৬ মে ২০২২  
শিশুর মতো দেখতে ৩ ফুট উচ্চতার অবলির বয়স কতো? 

সিলকি চুলগুলো আলগা করে ছেড়ে দেওয়া। কপালে লাল টিপ— প্রথম দেখায় যে কারো ধারণা হবে মেয়েটির বয়স পাঁচ কিংবা ছয়। কেউ এমনটা ভাবলে তা মোটেও অমূলক হবে না। কিন্তু আদতে তা নয়। তার বয়স ১৯ বছর। ২০০৩ সালে ভারতের নাগপুরে জন্মগ্রহণ করেন অবলি জারিত নামের এই মেয়ে।

বয়স অনুযায়ী অবলির শারীরিক বৃদ্ধি ঘটেনি। তার উচ্চতা ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি। জন্মের সময়ে আবলি মূত্রাশয় ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তার রেনাল রিকেট রোগ ধরা পড়ে। এজন্য তাকে সবসময় ডায়াপার পরিয়ে রাখা হতো। ধীরে ধীরে তার শরীরের হাড়ও দুর্বল হতে থাকে। ফলে তার হাড়ের বৃদ্ধি থমকে যায়। এতে করে অবলি কখনো হাঁটতেও পারেননি। হাঁটার যে চেষ্টা করেননি তা নয়। বরং হাঁটতে গিয়ে পড়ে যান; এতে আহতও হয়েছেন তিনি। এরপর আর কখনো হাঁটার সাহস করেননি। ১৯ বছর ধরে অবলি জীবনসংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আর তাকে ভালো রাখতে পরিবারের সদস্যরাও কোনোরকম ত্রুটি করছেন না।

অবলির ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে তাকে নিয়ে ট্রল করেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল হলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং সবকিছু উপেক্ষা করে মডেল ও গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভারতের রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান আইডলে অংশ নেন অবলি। গান গাওয়ার পাশাপাশি ভালো অভিনয়ও করেন তিনি। ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী হওয়ার। কিন্তু শরীর তার স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।  

ডেইলি মিররকে অবলি বলেন—‘ ছোটবেলায় নাচ-গানের প্রেমে পড়েছিলাম। অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু শরীরে হাড় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বুঝতে পারি আমি শারীরিকভাবে অক্ষম।’

তবে এক দুর্ঘটনার পর শারীরিকভাবে আরো অক্ষম হয়ে পড়েন অবলি। পরে তার ভাই আকাশের সহযোগিতায় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হন। এরপর তার মনোবল আরো বৃদ্ধি পায়। তারপর থেকে অভিনেত্রী হওয়ার সুপ্ত বাসনা পূরণের চেষ্টা ফের শুরু করেন। এরপর নাম লেখান ইন্ডিয়ান আইডলে।

ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে অবলি বলেন—‘ইন্ডিয়ান আইডলে অংশ নেওয়াটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ছিল। ওই সময়ে মানুষের কতটা যে ভালোবাসা পেয়েছি তা বোঝাতে পারব না। সত্যিকার অর্থে আমি নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা। কারণ শৈশব থেকে আজ অবধি আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তা থেকে জীবনযাপন করতে শিখেছি।’

তথ সূত্র: ডেইলি মিরর

শান্ত/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়