ঢাকা     সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

মেহমেতের নাকের নাগাল পাচ্ছে না কেউ

মুজাহিদ বিল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৬, ১৮ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৮:০৭, ১৮ নভেম্বর ২০২২
মেহমেতের নাকের নাগাল পাচ্ছে না কেউ

অনেক কিছু নিয়েই তো গিনেজ বুকে নাম ওঠে; রেকর্ড হয়। কিন্তু নাক নিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের কথা কজনই বা শুনেছেন! এমনই এক রেকর্ড করে গিনেজ বুকে নাম লিখিয়েছেন দুজন। একজন মৃত, অন্যজন জীবিত। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় (লম্বা) নাকের অধিকারী সেই মৃত ব্যক্তির নাম থমাস ওয়েডার্স। তিনি সার্কাসকর্মী ছিলেন। ব্রিটিশ সার্কাসের এক পরিচিত নাম থমাস ওয়েডার্স। তিনি ‘থমাস ওয়েডহাউস’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তার নাকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় সাড়ে ৭ ইঞ্চি (১৯ সেন্টিমিটার)।

থমাস ওয়েডার্সকে মরণোত্তর সবচেয়ে লম্বা নাকের ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। সম্প্রতি হিস্টোরিক ভিডস নামক একটি টুইটার পেইজ থেকে গত ১২ নভেম্বর থমাসের লম্বা নাকের কথা প্রকাশ করা হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সূত্র থেকে জানা যায়, ঐতিহাসিক বিবরণ অনুসারে ১৭৭০ সালের ইংল্যান্ডের অধিবাসী থমাস ওয়েডার্সের ছিল ৭.৫ ইঞ্চি লম্বা নাক। তিনি ট্রাভেলিং ফ্রিক সার্কাস দলের সদস্য ছিলেন।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট উইয়ার্ড হিস্টোরিয়ান ঘেঁটে জানা যায়, গোপিটোর একটি ‘পিনোকি’ নামে কাঠের পুতুল ছিল যেটি নাক দ্বারা অভিশপ্ত ছিল। প্রতিবার মিথ্যা বলার ফলে তার নাক বেড়ে যেতো। সেই পুতুল যদি সত্যি হতো তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতো থমাস ওয়েডার্স।

তবে জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাকের অধিকারী হলেন তুরস্কের মেহমেত ইজিরেক। টানা ১০ বছর ধরে তিনি এই রেকর্ড ধরে রেখেছেন। তার নাকের দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ইঞ্চি।

গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, ২০১০ সালে ৩ দশমিক ৪৬ ইঞ্চি নাক নিয়ে রেকর্ড করেন মেহমেত। এখন পর্যন্ত ৭১ বছর বয়সী মেহমেতের নাকের নাগাল বিশ্বের আর কেউ পায়নি। ওই পোস্টে গিনেস কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১০ সালে তুরস্কের মেহমেত ইজিরেক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নাকের রেকর্ড করেন।

অনেকেই মনে করেন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নাকের আকৃতি বড় হয়। এই ধারণা পরীক্ষা করে দেখতেই দুই দশকে দুইবার মেহমেতের নাকের মাপ নেয় গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ (প্রথমে ২০১০ সালে, এরপর ২০২১ সালে)। তবে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

লম্বা নাকের জন্য সব কিছুর ঘ্রাণ সবার আগেই পেয়ে যান মেহমেত। তিনি বলেন, অন্যান্য মানুষ যেখানে কোনো গন্ধ পান না, সেই জায়গাতেও আমি সবার আগে গন্ধ শনাক্ত করতে পারি। বাড়িতে ঢুকেই আমি গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারি কী রান্না হয়েছে।

মেহমেত ২০১০ সালে ইতালির একটি টিভি শোতে বলেন, আমার পূর্বপুরুষদের নাকও ছিল আমার মতো বড়। আমি বিশেষ এক শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে জন্মেছি। অন্যদের চেয়ে আমার নাক অনেক বড়। এ নিয়ে আমার বন্ধুরা আমাকে ক্ষ্যাপায়। কোনো জায়গায় গেলে অনেকেই আমার নাক বারবার ঘুরে দেখেন। অনেক সময় বিরক্ত লাগলেও, ভালো লাগে। এই নাক আমাকে একটি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক বানিয়েছে। 

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়