ঢাকা     শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৭ ||  ২৯ মহরম ১৪৪২

২১ বছরের কবি

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:১৪, ১৫ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
২১ বছরের কবি

শাহ মতিন টিপু : অবশেষে সব কাজ সেরে/আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে/করে যাব আশীর্বাদ/তারপর হব ইতিহাস। –সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘ছাড়পত্র’ কবিতার শেষ ক’টি লাইনে এভাবেই ইতিহাস হতে চেয়েছিলেন।

‘আঠারো বছর বয়স’ শিরোনামের কবিতায় লেখেন- ‘তব আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি/এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে/বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী/এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।’

হ্যাঁ তিনি এ বয়সে নতুন কিছু করেছেন বটে, কিন্তু দুর্যোগ আর ঝড়ের বিপত্তি কাটিয়ে উঠতে পারেননি আর। ম্যালেরিয়া ও শ্বাসরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। এই হাসপাতালেই মাত্র ২১ বছর বয়সে কবি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মারা যান।

২১ বছরের জীবনে লেখালেখি করেন মাত্র ৬/৭ বছর। সামান্য এই সময়ে নিজেকে মানুষের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। বাংলা কাব্য, নাটক ও প্রবন্ধ সাহিত্যে অসাধারণ প্রতিভাধর এই কবি স্বল্প সময়ে লেখালেখি করেও বিপুল মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং খ্যাতি লাভ করেন। বলা হয়, তার রচনা পরিসরের দিক থেকে স্বল্প অথচ তা ব্যাপ্তির দিক থেকে সুদূরপ্রসারী।

কবি বেঁচে থাকলে আজ ৯৪ বছরে পা রাখতেন। তার জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। আবার এই ১৫ আগস্টই আমাদের জন্য বেদনাবিধুর শোকের দিন। এই দিনই একদল ঘৃন্য ঘাতকের হাতে নিহত হয়েছেন আমাদের এক রাজনৈতিক কবি। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যার প্রতিটি কথাই যেন একেকটি মুক্তির কবিতা। তিনিও এই গোপালগঞ্জেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে লিখেন নাটক ‘ধ্রুব’। এই নাটকে তিনি অভিনয় করেন। সেই থেকে কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন। সাংবাদিকতায় অসাধারণ মেধার পরিচয় রাখেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন ১৯৪৪ সালে। পরে দলটির মুখপত্র ‘দৈনিক স্বাধীন’ সম্পাদনা কাজে যোগ দেন। ১৯৪১ সালে যোগ দেন কলকাতা রেডিওতে। অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে জাতীয় কবি নজরুলের মতো সুকান্তও ছিলেন সক্রিয়।

সুকান্ত মাত্র সাত-আট বছর লেখালিখি করে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। প্রগতিশীল মানসে দীক্ষিত এ কবি বাংলা সাহিত্যে মার্কসবাদী ভাবধারা ও বৃটিশ শোষণ-বিরোধী এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখালিখি করেন। সাহিত্যচর্চায় স্বল্প সময়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) ইত্যাদি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তার রচনাবলি প্রকাশিত হয়।

সে সময়ের বড় বড় কবির ভিড়ে তিনি হারিয়ে যাননি। নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন নিজ প্রতিভা, মেধা ও মননে। সুকান্ত তার বয়সের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন তার পরিণত ভাবনায়। ভাবনাগত দিকে সুকান্ত তার বয়স থেকে অনেক বেশি এগিয়ে ছিলেন।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ আগস্ট ২০১৯/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়