ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কাঁঠালের চেয়ে পাতার কদর বেশি!

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১৮ ৪:৫৮:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-১৮ ৭:২৫:১২ পিএম
কাঁঠালের চেয়ে পাতার কদর বেশি!

আরিফ সাওন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফিরে : কিছু প্রবাদ শোনা যায়- বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় কিংবা এক হাত বোল্লার বারো হাত শিং। সম্প্রতি এসব প্রবাদের মর্মার্থ বোঝা গেল চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে। সেখানে কাঁঠালের চেয়ে এর পাতার দাম বেশি। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটী বাজারের কাছে গিয়ে দেখা যায়, একজন সাইকেলে করে কাঁঠাল পাতা নিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটু সামনে এগোনোর পর দেখা গেল, কারো হাতে, কারো সাইকেলের পিছনে, কারো ভ্যানে, কারো মোটরসাইকেলের পেছনে, কারো মাথায় কাঁঠালের পাতা। প্রতিবন্ধী মানুষও তার ভ্যানে করে কাঁঠাল পাতা নিয়ে যাচ্ছেন।

আরো কিছু দূর যাওয়ার পর রানীহাটী বাজার। সেখানে পৌঁছে দেখা গেল, রাস্তার পাশে কাঁঠাল পাতার আঁটি নিয়ে বসে আছেন অনেক। তাদের ঘিরে বেশ ভিড়।

কথা বলে জানা গেল, যারা কাঁঠাল পাতা নিয়ে বসে আছেন, তারা বিক্রেতা। প্রতিদিনই কাঁঠাল পাতা বিক্রি করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই এলাকায় কাঁঠালের চেয়ে কাঁঠাল পাতার কদর বেশি। কাঁঠাল বিক্রির পর গাছের মালিকরা কাঁঠালের পাতাও বিক্রি করেন। জেলার বাইরে থেকেও এ জেলায় কাঁঠাল পাতা আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁঠাল পাতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

শুধু বাজারে বসে নয়, ভ্যানে নিয়ে ফেরি করেও কাঁঠাল পাতা বিক্রি হয়। প্রতি আঁটির দাম ১০ টাকা।

কানসাট বাজারে এক বিক্রেতার সাথে কথা হয়। মাহবুব নামের ওই  বিক্রেতা জানান, এটা তার মৌসুমি ব্যবসা। কাঁঠাল বিক্রি করার পর গাছের মালিকদের কাছ থেকে পাতা কেনেন। পাতার ওপর দাম নির্ভর করে। পাতা বেশি থাকলে দাম বেশি, কম থাকলে কম। ২ থেকে ৪ হাজার টাকায় একটি গাছের পাতা কেনেন। এরপর প্রতিদিন পাতাসহ ছোট ছোট ডাল কেটে আটি বেঁধে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।

কানসাট বাজারের মোহাম্মদ আয়েশ উদ্দিন নিয়মিত কাঁঠাল পাতা কেনেন। কাঁঠাল পাতা কিনে কী করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাগলকে খাওয়াই।

তিনি জানান, তার একটি ছাগল আছে। ভুট্টা ও গমের পাশাপাশি প্রতিদিন ২০ টাকা দিয়ে দুই আঁটি কাঁঠাল পাতা কিনে ছাগলকে খাওয়ান।

তিনি আরো জানান, তাদের এলাকায় প্রায় প্রতি পরিবারেই ছাগল আছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, আমরা তিনটি গ্রামে সার্ভে করেছি। সে হিসেবে এ জেলায় গরু আছে ১২ লাখের মতো এবং ছাগল-ভেড়া আছে ১২ লাখের বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জুন পর্যন্ত যে কৃষি শুমারি করেছে, সে পরিসংখ্যান আমরা এখনো পাইনি।

বিক্রেতা মাহবুব জানান, প্রতিদিন অন্তত ১৫০ আঁটি কাঁঠাল পাতা দোকানে দোকানে সরবরাহ করেন। দোকানের মালিক বা কর্মচারী যাদের ছাগল আছে, তারা নিয়মিত ক্রেতা। এছাড়া, ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে আরো অন্তত ২০০ আঁটি বিক্রি করেন।

কানসাট, রানীহাটী, মহানন্দা সেতুর পাশে, ছত্রাজিতপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁঠাল পাতা বিক্রি করতে দেখা গেছে। কানসাটে বিকেলে, রানীহাটী বাজারে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত এবং মহানন্দা সেতুর নিচে বিকেলে কাঁঠাল পাতা বিক্রি হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা বলেন, এ এলাকায় ব্যাণিজ্যিকভাবে বা বিপুল পরিমাণে কাঁঠাল হয় না। বড় পরিসরে কাঁঠাল বাগানও নেই। বিক্ষিপ্তভাবে কাঁঠাল গাছ আছে ৬৮৫ হেক্টর জায়গায়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, এ জেলায় কাঁঠাল গাছ কম। কাঁঠাল পাতা বেশি আসে নওগাঁ জেলা থেকে। ছাগল বেশি থাকার কারণে কাঁঠাল পাতার চাহিদাও খুব বেশি।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ আগস্ট ২০১৯/সাওন/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন