ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরের বীরত্ব গাঁথা

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২০ ১২:৪৯:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২০ ১২:৪৯:০৩ পিএম

রাইজিংবিডি ডেস্ক: দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠ’র একজন মতিউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি দেশের জন্য বীরের মতো লড়তে লড়তে শহীদ হন।

বাংরাদেশের পক্ষে লড়াই করায় পাকিস্তানী হানাদাররা তাকে গাদ্দার বলে আখ্যায়িত করে। করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণির কবরস্থানে তার কবরের সামনে লিখে রাখে ‘ইধার শো রাহা হ্যায় এক গাদ্দার’।

প্রায় ৩৫ বছর পাকিস্তানের ওই কবরেই শায়িত ছিলেন বাংলাদেশের এই বীরশ্রেষ্ঠ। ২০০৬ সালের ২৩ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পুনরায় তাকে পূর্ণ মর্যাদায় ২৫ জুন শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হয়।

আপাদমস্তক সাহসী এই বীর দেশমাতৃকার টানে নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ, পরিবার-পরিজন সবকিছুই পিছনে ফেলে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দেশমাতৃকার জন্য লড়াই করেন এবং শহীদ হন।

মতিউর রহমানের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর । বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। পৈতৃক নিবাস নরসিংদীতে হলেও জন্ম তার পুরনো  ঢাকায়। পড়ালেখাও ঢাকায়। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।

১৯৭১ সালের শুরুতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর সপরিবারে দুই মাসের ছুটিতে ঢাকা আসেন। ২৫ মার্চের কালরাতে ছিলেন রায়পুরের রামনগর গ্রামে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম ঝুঁকি ও সাহসিকতার সঙ্গে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুলেন। যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন।

এ সময় তিনি যুদ্ধে লড়াইর জন্য একটি বিমান ছিনতাইর পরিকল্পনা করেন। তাই করাচিতে ফিরে যান। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন। কিন্তু বিমানে থাকা মিনহাজ রশীদ এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় বিমানে রশীদের সঙ্গে মতিউরের ধস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন এবং রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে উড্ডয়নের উচ্চতা কম থাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মতিউরের সঙ্গে প্যারাসুট না থাকায় তিনি প্রাণ হারান। তার মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা-মাইল দূরে পাওয়া যায়। বলা হয়, মতিউর রহমান সে সময় ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন মিনিটের দূরত্বে ছিলেন।

মিনহাজ রশীদের দেহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও মতিউরের দেহ প্রায় অবিকৃত থেকে যায়। পাকিস্তান সরকার রশীদকে জাতীয় বীর হিসেবে নিশান-ই-হায়দার উপাধিতে ভূষিত করে আর বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে মতিউর রহমানের ঠাঁই হয় করাচির মাসরুর এয়ার বেসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের গোরস্থানে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ আগস্ট ২০১৯/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন