ঢাকা, বুধবার, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

জোড়া কিংবা হালিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ

জাহিদ সাদেক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৫ ৬:১৫:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৬ ৮:০৮:২৯ পিএম

রাজধানীসহ সারা দেশে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতার কাছে এ যেন ‘পাগলা ঘোড়া’! কিছুতেই দাম নাগালের মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। অথচ বাঙালির হেঁসেলে পেঁয়াজ ছাড়া যেন চলেই না। তাহলে উপায় কী?

প্রয়োজন উদ্ভাবনের জননী। কথাটি আবার প্রমাণিত হলো। মধ্যবিত্ত, নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে অভিনব উপায় বের করেছেন একজন পেঁয়াজ বিক্রেতা। রাজধানীর কাঁচাবাজারে যেখানে ১৪০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ; আড়াইশ গ্রামের নিচে কেনাও যায় না, সেখানে আপনি চাইলে জোড়া অথবা হালিতেও পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। গুলশান-২ এর হানিফ স্টোর দিচ্ছে ক্রেতার জন্য এই সুযোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন জুয়েল যত্ন করে বিভিন্ন পেঁয়াজের প্যাকেটে মূল্য এবং সুন্দর ক্যাপশন লিখে রেখেছেন!

যেমন পেঁয়াজের বস্তায় লিখে রেখেছেন: ‘পেঁয়াজের দাম যতই বাড়ুক, নো টেনশন! প্রতিহালি বুঝে নিন ১০ টাকায়’। এছাড়াও রয়েছে ‘ছোটদের, বড়দের, সকলের, গরীবের, নিঃস্বের, ফকিরের আমার এ পেঁয়াজ’। ‘আমি একা মূল্য ৫’, ‘আমরা দুজন মাত্র ১০’, ‘ভাইরাল পেঁয়াজ’, ‘দামী পেঁয়াজ’, ‘দেশী পেঁয়াজ হালি মাত্র ১০’। এমন মজার সব ক্যাপশন দিয়ে প্যাকেট সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। ক্রেতা চাহিদা এবং পকেটের স্বাস্থ্য বুঝে কিনছেন সেই প্যাকেট।

ডিমের মতো পেঁয়াজও হালি হিসাবে বিক্রি করছেন। কেন এই উদ্যোগ জানতে চাইলে দোকানী শাহাদাত হোসেন জুয়েল জানালেন, এক কেজি পেঁয়াজ গুণে দেখা গেছে সংখ্যায় হয় ৩৬ থেকে ৪১টি। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ হালি। তাই যাদের পয়সা কম তাদের জন্যই মূলত এই ব্যবস্থা। তারা হালি হিসাবে পেঁয়াজ কিনছেন।

তবে তার দোকানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি হাস্যরসের শিকার হয়েছেন বলেও জানালেন। প্রতিবেশী দোকানীরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা করলেও অভিনব এই উদ্যোগে তিনি যে সফল একথা বলা যায়। কেননা দোকানে আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য ক্রেতাদের অনেকেই আসেন পেঁয়াজের প্যাকেটের গায়ে লেখা ক্যাপশন দেখতে। তারা দেখে মুচকি হেসে চলে যান। কেউ কেউ যাওয়ার আগে মুনাফাখোড়দের উদ্দেশ্যে বায়বীয় অভিশাপও ছুড়ে দেন।

জুয়েল বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন, ১৫০-১৬০ টাকা কেজি পেঁয়াজ। এ সময় ১০ টাকার পেঁয়াজ কেউ বিক্রি করবে না। যারা হাফ কেজি কিনত বা একদিন পরপর কিনত তারা এখন ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কিনে। অথচ আমার এলাকায় প্রচুর ব্যাচেলর ও নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষ থাকে। যারা স্বাভাবিকভাবে ২৫০ গ্রাম করে কিনতেন এখন তারা ১০ টাকার পেঁয়াজ কিনতে লজ্জা পাবেন। তাহলে এর সমাধান কী? ভাবতে ভাবতেই পেয়ে গেলাম এই সমাধান।’

জুয়েল আরো বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের চেয়ে ভারতীয় লাল পেঁয়াজের ওজন সাধারণত বেশি। দেশি পেঁয়াজ যেখানে কেজিতে ৪০-৫০টি বা তারও বেশি হয়, সেখানে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৪ থেকে ২০টি হয়। সে হিসেবে একটি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম পড়ছে পাঁচ টাকা। সাধারণত একটি পরিবারে মাসে গড়পড়তা ৫ কেজি পেঁয়াজ লাগে। আগে একশ টাকার পেঁয়াজেই একটি মাঝারি পরিবারের পুরো মাস চলে যেত। এখন তা সম্ভব নয়। ফলে বাজেট ছোট করতে হচ্ছে। আমিও ক্রেতার বাজেট অনুযায়ী ১০ টাকায় এক হালি পেঁয়াজ দিচ্ছি।’

এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মূল্য তালিকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪২ টাকা লেখা। কিন্তু বাস্তবে বাজারে এ দর টিকছে না। এক মাসে বাজারে পেঁয়াজের দাম ৭১ শতাংশ বেড়েছে। তবে চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না। বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে বাজারে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্যাম বাজারের কয়েকজন বিক্রেতা।


ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন