ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

হোসেন সোহেলের প্রাণি প্রেম

খায়রুল বাশার আশিক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৩ ৮:৩১:০০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৩ ১:১৫:২৪ পিএম

মানব সমাজে অনেকে নির্মম হন পশুপাখির বিরুদ্ধে। আবার মানব মনেই থাকে পশু-পাখির জন্য মমত্ব। হোসেন সোহেলের জন্য দ্বিতীয় বাক্যটি প্রযোজ্য। পেশায় তিনি সংবাদকর্মী। কাজ করছেন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণি, পাখি সংরক্ষণ এবং প্রাণির অধিকার আদায়েও তিনি সরব। প্রাণির অস্বাভাবিক মৃত্যু তাকে কাঁদায়। পরিবেশ বিপর্যয়ে যখন বাস্তুসংস্থান নষ্ট হচ্ছে, নগরায়ন কিংবা বন উজারের ফলে যখন বন্যপ্রাণি আশ্রয় হারাচ্ছে, মানব সৃষ্ট দুর্যোগে যখন পাখি নীড় হারাচ্ছে তখন প্রকৃতির যোদ্ধা হয়ে এগিয়ে এসেছেন হোসেন সোহেল। তিনি চান সবুজ প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকুক।

গণমাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করেন হোসেন সোহেল। টিভি সাংবাদিকতায় ভিন্ন একটি আঙ্গিকে কাজ করার ফলে তিনি লাভ করেছেন জনপ্রিয়তা। পাখি, সাপ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। ব্যাঙ, তক্ষক, টিকটিকি, হাতি, বানর, বানরের বেঁচে থাকার নিয়মে ব্যাত্যয় ঘটলে এড়িয়ে যায় না তার চোখ। প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সেগুলো তুলে আনেন। তার ক্যামেরায় উঠে আসে প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার নানা দিক। তিনি তুলে ধরেন পরিবেশের সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার সম্পর্কের কথা। পাশাপাশি তুলে আনেন বন খেকোদের বন উজার, পাহাড়ের বুক থেকে পাথর উত্তোলনকারীদের দস্যিপনার খবর। একাধিকবার নানা পরিবেশ ইস্যুতে তিনি টনক নাড়িয়েছেন প্রশাসন ও পরিবেশবিদদের।

হোসেন সোহেল দেখিয়েছেন কেমন আছে জলের নিচে উদ্ভিদ ও সেখানে বসবাসরত মাছগুলো। বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি রক্ষা, ঝিরির তলায় পানির আস্তরণ, ঝিনুকের বেঁচে থাকা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে শঙ্খ- শামুক-কচ্ছপের প্রয়োজনীয়তা, সেন্টমার্টিনের প্রবালের জীবন প্রণালী। মানুষকে বুঝিয়েছেন পরিবেশ ও প্রতিবেশে বন্যপ্রাণি কতটা গুরুত্ব বহন করে। এছাড়াও পর্যটন খাত ও পর্যটন নীতিমালা তৈরি নিয়ে বারবার বিভিন্ন মহলে কথা বলেছেন এই সাংবাদিক।

প্রকৃতিপ্রেমের কারণে রিপোর্টিং-এর ক্ষেত্র হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন প্রকৃতি। নেশার সাথে পেশার তাগিদে ছুটে গিয়েছেন বন থেকে চরে। পাহাড় থেকে হাওরে। টাঙ্গুয়ার হাওরের পানির তলদেশের জলজ উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করেছেন। উপকূলের নদীর সীমানা ছাড়িয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন বঙ্গোপসাগরে। তুলে এনেছেন নীল তিমির জীবনাচরণ কিংবা হোয়েল শার্কের চলাচল।

হোসেন সোহেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি লক্ষ্য করলে যে কেউ বুঝবেন- সর্বদা প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচানোর জন্য তিনি কী করছেন। এজন্য জীবনের ঝুঁকি নিতেও ভয় পান না। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা। সুন্দরবনে বাঘ নিয়ে ৭ পর্বের ধরাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় পেয়েছেন টিআইবি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পদক-২০১২।  পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তার অবদান রয়েছে। বছরে অন্তত একবার হলেও প্রকৃতিপ্রেমীদের সম্মেলন ঘটে জঙ্গলবাড়ি ক্যাম্পে। জঙ্গলে ভ্রমণইচ্ছুকদের সম্মেলন হিসেবে খ্যাত এই ক্যাম্পের সফল আয়োজক তিনি। বন্যপ্রাণি সম্পর্কিত নিউজ অনলাইন ‘ওয়াইল্ড ওয়ার্স’র উপদেষ্টা এই সংবাদকর্মী। বন্যপ্রাণি সম্পর্কিত শিশুশিক্ষা কার্যক্রম ‘ম্যানিম্যাল’-এর উদ্যোক্তাও তিনি।

হোসেন সোহেল বলেন, প্রতিটি প্রাণি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণ ও প্রকৃতি আঁকড়ে টিকে আছে আমাদের মানব সভ্যতা। তাই এগুলো রক্ষা করা মানে আমাদের নিজ সভ্যতা রক্ষা করা। কিন্তু বুঝে, না বুঝে প্রাণি হত্যার মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত হত্যা করে চলেছি আমাদের ভবিষ্যত। প্রাণি ও প্রকৃতি রক্ষায় একটু হলেও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমার এই ছোট্ট প্রচেষ্টা।

তিনি আরো বলেন, প্রাণি ও মানুষের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে মানুষ কথা বলতে পারে। অন্য প্রাণিরা পারে না। তাই প্রাণিকুলে মানুষের খেয়ালখুশির কাছে ওরা অসহায়। ফলে মানুষের চরম নির্মমতায় কিংবা পরিবেশের চরম বিপর্যয়েও একটি প্রাণি কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। কিন্তু প্রাণির না বলতে পারা সব কষ্ট ও কথাগুলো অনুধাবন করা মানুষের দায়িত্ব। অসহায় প্রাণকে সাহায্য করার কথা প্রতিটি ধর্মেও উল্লেখ আছে। মনে রাখতে হবে, প্রাণির স্বাধীন বিচরণে স্বাভাবিক থাকে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই প্রাণি রক্ষা মানে আমাদের সভ্যতা রক্ষা করা।

পরিবেশ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি রক্ষায় করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। আর জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদ মাধ্যমগুলো হতে পারে অন্যতম হাতিয়ার। তাই প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের উচিৎ প্রাণ ও প্রকৃতিকে প্রাধান্য দেয়া। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।



ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন